বাংলাদেশ

বাংলাদেশ নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়, শ্রীলংকার না: এলজিআরডি মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ তার নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়- শ্রীলংকার নীতিমালায় না। তাই শ্রীলংকার অভ্যন্তরীণ সংকটের সঙ্গে আমাদের দেশের উদাহরণ দেওয়া অযৌক্তিক এবং বড়ই বেমানান।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ডেল্টা প্ল্যান ২০২১ বিষয়ক সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। মানুষের মাথাপিছু আয় ও ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বগুনে দেশে অনেক উন্নত দেশ ও বিদেশি সংস্থা বিনিয়োগ করছে। তাই কোনো দেশ যদি সে দেশের অভ্যন্তরীণ পলিসির কারণে অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে এবং একই অবস্থা অন্য একটি দেশের হবে- এটা বলা অনভিপ্রেত ও অযৌক্তিক এবং এ রকম হওয়ার কোনো সম্ভাবনাও নেই।

তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ মহাপরিকল্পনা’। এ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য।

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, সরকারের ডেল্টা মহাপরিকল্পনা শুধু কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ নেই এবং থাকবেও না। বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ ও একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতিতে রূপান্তরিত করাই ডেল্টা প্ল্যানের মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের ফলে আগামী প্রজন্ম একটি উন্নত দেশ পাবে। এই দেশ টেকসই হবে।

তিনি বলেন, নেদারল্যান্ডসের ব-দ্বীপ পরিকল্পনার আলোকে সে দেশের সার্বিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনাটি প্রণীত হয়েছে। ডেল্টা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা প্রয়োজন। এ সময় বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং জাইকাসহ উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও প্রতিষ্ঠানকে পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডস সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের স্থানী সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মধ্যে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) স্বাক্ষরিত হয়। ওই লেটার অব ইনটেন্টের মাধ্যমে ডাচ সরকার জলবায়ূর প্রভাব মোকাবিলায় প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামের রাউজান এবং যশোরের কেশবপুর পৌরসভায় পাইলটিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরবর্তীতে শতাধিক পৌরসভায় জলবায়ূর ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করা হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। গত কয়েক বছরে মাথাপিছু আয় বেড়ে ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলার হয়েছে। করোনাকালীন সময়ে অনেক দেশ পিছিয়ে গেছে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হেনেছে। বিশ্বব্যাপী ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। কিন্তু আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, এসডিজি-২০৩০, ভিশন-২০৪১সহ নানা মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সরকার দেশ পরিচালনা করছে। এসব পরিকল্পনা ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ এর অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য। এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ অবশ্যই বিশ্বের বুকে গর্বিত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।

তিনি বলেন, সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সারা পৃথিবীতেই আছে। আমাদের দেশেও রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের সে প্রস্তুতি আছে।

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম।

এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত এবং দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension