অর্থনীতি ও বাণিজ্যযুক্তরাষ্ট্র

বারবার কেন যুক্তরাষ্ট্রেই কেবল শাটডাউন হয়?

বিশ্বের অন্য অনেক দেশে যুদ্ধ বা সাংবিধানিক সংকটের মধ্যেও সরকার চালু থাকে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে বারবার দেখা যায় এক অনন্য ঘটনা—সরকার অচলাবস্থা বা ‘গভর্নমেন্ট শাটডাউন’। কেন এমন হয়?

যুক্তরাষ্ট্রে সরকার অচল হওয়া এখন একধরনের রাজনৈতিক দরকষাকষির অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। দেশটির ফেডারেল শাসনব্যবস্থা এমনভাবে গঠিত, যাতে সরকারের বিভিন্ন শাখা—কংগ্রেস, প্রেসিডেন্ট ও বিচার বিভাগ—বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে।

এই কাঠামোর প্রতিষ্ঠাতারা ভেবেছিলেন, এগুলো সমঝোতা ও পর্যালোচনাকে উৎসাহিত করবে, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তা উল্টো অচলাবস্থার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর মূল সূত্র পাওয়া যায় ১৮৮৪ সালের ‘অ্যান্টি-ডেফিসিয়েন্সি অ্যাক্ট’–এ। এই আইনে বলা হয়েছিল, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সরকার কোনো ব্যয়সংক্রান্ত চুক্তিতে যেতে পারবে না। প্রায় এক শতাব্দী ধরে বাজেট অনুমোদনে বিরতি এলেও প্রয়োজনীয় খরচ চলতে থাকত।

কিন্তু ১৯৮০ সালে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের প্রশাসনের অ্যাটর্নি জেনারেল এই আইনের একটি কঠোর ব্যাখ্যা দেন—যেখানে বলা হয়, ‘বাজেট না থাকলে ব্যয়ও বন্ধ থাকবে’।

এর ফলেই ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান একটি ব্যয়বিল ভেটো করলে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র সরকার আংশিকভাবে অচল হয়ে পড়ে। সেই শাটডাউন কয়েকদিন স্থায়ী ছিল।

এরপর থেকে অন্তত ১০ বার বিভিন্ন সময় সরকার অচল হয়ে পড়েছে—যা কখনও অর্ধদিন, আবার কখনও এক মাসেরও বেশি স্থায়ী হয়েছে।

বর্তমান অচলাবস্থা এখন ৩৮তম দিনে প্রবেশ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সরকারি শাটডাউন হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।

সূত্র: বিবিসি

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension