জাতিসংঘ

বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের প্রতিভা বিকাশে কাজ করছে বাংলাদেশ: জাতিসংঘে পররাষ্ট্র সচিব

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। সোমবার বাংলাদেশ, কাতার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০২৩: জীবনব্যাপী অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা’ শীর্ষক উচ্চ-পর্যায়ের সভায় মূলবক্তব্য প্রদানকালে এমন আহ্বান জানান তিনি।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, “বিশ্বে ৭ কোটি ৫০ লাখের অধিক মানুষ অটিজমে আক্রান্ত। এই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিরা যাতে তাদের সুপ্ত প্রতিভাকে সর্বাধিক কাজে লাগাতে পারে এবং আমাদের সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সে জন্য সম্মিলিতিভাবে কাজ করে যাবার জন্য আজ আমরা আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি। এ লক্ষ্যে আমি সকলকে বিভিন্ন উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে আসার জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাই।”

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কাতারের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আলেয়া আহমেদ সাইফ আল-থানি এবং বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ আব্দুল মুহিত।

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, “বাংলাদেশে গত এক দশকে অটিজম বিষয়ে সচেতনতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।” এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। যার মধ্যে রয়েছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ ও নিউরো-ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন ২০১৩ প্রণয়ন; দেশজুড়ে ১০০ টি অটিজম ও নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার কেন্দ্র স্থাপন এবং এ সকল কেন্দ্রে কর্মরত কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান।

তিনি আরো বলেন, “আমাদের জাতীয় প্রচেষ্টার পাশাপাশি আমরা জাতিসংঘেও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। সাধারণ পরিষদে এ সংক্রান্ত রেজুলেশন গ্রহণে আমরা গভীরভাবে কাজ করেছি। ২০০৭ সাল থেকে প্রতি বছর ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ উদযাপনে আমরা অন্যান্য দেশের সঙ্গে অন্যতম সহ-পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করে থাকি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সময় প্রতিবন্ধি ব্যক্তিরা যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হয়, তা মোকাবেলার জন্য দ্বিতীয় গ্লোবাল ডিসএবিলিটি সামিট ২০২২ এর সময় আমরা আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছি।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিউইয়র্ক অফিসের পরিচালক মি. ওয়ার্নার ওবারমেয়ার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং এতে বিভিন্ন দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি, অন্যান্য পর্যায়ের কূটনীতিক, জাতিসংঘের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension