
বিশ্বের অর্ধেক মানুষের সম্পদ ২৬ ধনীর হাতে
রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষের মোট সম্পত্তির পরিমাণ সম্পদ রয়েছে মাত্র ২৬ জন শীর্ষ ধনীর হাতে। সোমবার দাতব্য প্রতিষ্ঠান অক্সফাম এ তথ্য প্রকাশ করেছে।সুইজারল্যান্ডের ডাভোস শহরে বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মলনের প্রাক্কালে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দাতব্য সংস্থা অক্সফাম।
সংস্থাটি বলছে, গত বছর বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্ধেক বা ৩.৮ বিলিয়ন মানুষের মোট সম্পত্তির পরিমাণ আরো ১১ শতাংশ কমেছে। ফলে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ফারাক আরো বেড়েছে এবং এ কারণেই দারিদ্রতা ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠার লড়াইটা কঠিন হয়ে পড়েছে। আর এ থেকে এসব দরিদ্র লোকজনের হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
এ সম্পর্কে অক্সফামের নির্বাহী পরিচালক উইনে বাইয়ানিমা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সারা বিশ্ব জুড়েই লোকজনের ক্ষোভ আর হতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
অক্সফামের মতে, বিশ্বের ২২০০ বিলিওনিয়ারের সম্পত্তির মূল্য ২০১৮ সালে বেড়েছে ৯০০ বিলিয়ন ডলার, প্রতিদিন বেড়েছে ২.৫ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বের ধনকুবেরদের সম্পত্তি বৃদ্ধির হার ১২ শতাংশ। বিপরীতে বিশ্বের দরিদ্র অর্ধেক মানুষের সম্পত্তি কমেছে ১১ শতাংশ। এর ফলে বিশ্বের অর্ধেক মানুষের সমান সম্পত্তি জমা হয়েছে বিলিওনিয়ারদের হাতে।
প্রতিবেদনটিতে আরও উঠে এসেছে, আর্থিক মন্দার পর গত দশ বছরের বিলিওনিয়ারদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৭ ও ২০১৮ সালের প্রতি দুইদিন অন্তর নতুন একজন বিলিওনিয়ার হয়েছেন। যুক্তরাজ্যের ধনীদের ১০ শতাংশের তুলনায় দরিদ্রতম ১০ শতাংশ মানুষ উচ্চহারে কর দিচ্ছেন।
অক্সফামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি জেফ বেজসের সম্পত্তি বেড়েছে ১১২ বিলিয়ন ডলারে। তার এই সম্পত্তির মাত্র ১ শতাংশ ১০৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ ইথিওপিয়ার পুরো স্বাস্থ্য বাজেটের সমান।
অক্সফামের প্রচারণা ও নীতি বিষয়ক পরিচালক ম্যাথিউ স্পেনসার বলেন, চরম দারিদ্র্যে বাস করা মানুষের সংখ্যা কমে আসা গত শতকের শেষার্ধে বড় অর্জন। কিন্তু ক্রমবর্ধমান অসমতা ভবিষ্যতে এই খাতের অগ্রগতিকে জটিল করে তুলছে। আমাদের অর্থনীতি যে পথে চলছে তাতে সম্পত্তি ক্রমবর্ধমানভাবে এবং অন্যায্যভাবে কয়েকজনের কাছে জমা হচ্ছে।
স্পেনসার আরও বলেন, এটা এমন হওয়া উচিত নয়। সবাইকে বেঁচে থাকার সুযোগ দেয়ার পর্যাপ্ত সম্পদ রয়েছে পৃথিবীতে। সরকারগুলোর উচিত সম্পদ ও ব্যবসায়ীদের কর বাড়ানো। যাতে করে তারা জনগণের জীবন পরিবর্তনের জন্য উন্নত মানের সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিবেদনেটিতে বলা হয়েছে, অনেক দেশ সরকারি সেবাখাতে বিনিয়োগ করতে ব্যর্থ হওয়ায় অসাম্যকে তীব্রতর করে তুলছে। স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ায় ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২৬২ মিলিয়ন শিশু এখও স্কুলে যেতে পারছে না, কারণ তাদের পিতা-মাতারা স্কুলের ফি, পোশাক ও বই কিনে দিতে পারছে না।
এদিকে, বিশ্ব অসাম্য প্রতিবেদন ২০১৮-এ উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৮০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতি ডলারের মধ্যে মাত্র ১২ সেন্ট অর্জন করেছে পৃথিবীর অর্ধেক দরিদ্র মানুষ। বিপরীতে শীর্ষ ধনী ১ শতাংশ প্রতি ডলারের ২৭ সেন্ট পেয়েছে।

সূত্র: গার্ডিয়ান



