বেগম খালেদার স্বাস্থ্য পরিক্ষায় নতুন কোন উপসর্গ পায়নি মেডিকেল বোর্ড

রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্কঃ সরকারের গঠিত নতুন মেডিকেল বোর্ড কারাবন্দি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নতুন করে কোন ‘গুরুতর উপসর্গ’ পায় নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন গণমাধ্যমকে গতকাল রোববার এ তথ্য জানিয়েছেন। পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তাদের প্রতিবেদন হস্তান্তর করার পর তিনি এ কথা বলেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি হতে চাইলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলই ভালো হবে বলে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে বোর্ডের চিকিৎসকরা কী পেয়েছেন জানতে চাইলে আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, নতুন কোনো সিরিয়াস উপসর্গ পান নি বোর্ডের চিকিৎসকরা।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আগে থেকেই রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস (গেঁটে বাত) রয়েছে। সে কারণে দুই হাতে ও পিঠে ব্যথা অনুভব করেন। সে জন্য চিকিৎসকরা তাঁকে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন।
চিকিৎসকদের প্রতিবেদনে আরো কী বলা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিবেদনে আছে, খালেদা জিয়ার বাম হাঁটুর জয়েন্টে বাতজনিত সমস্যা রয়েছে এবং তাঁর পিঠে হাড়ক্ষয়জনিত সমস্যা আছে। তাঁর একটি চোখেও অ্যালার্জিজনিত সমস্যা আছে। শনিবার কারাগারে মেডিকেল বোর্ড পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন এবং তার অসুস্থতাজনিত সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের পরিচালক জানান, ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে হৃদযন্ত্র, রক্তচাপ বা ডায়বেটিসের কোন সমস্যা পাওয়া যায় নি। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হারুন জানান, মেডিকেল বোর্ড তাঁকে ট্রিটমেন্ট দিয়ে এসেছেন। এর পরেও যদি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন, তাহলে মেডিকেল বোর্ড তাঁকে এমন একটি হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেছেন যেখানে সব ডিসিপ্লিনের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।
সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পরামর্শই দেয়া হয়েছে বলে জানান আবদুল্লাহ আল হারুন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ে ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। অসুস্থতার কারণে অন্য মামলায় তিনি আদালতে হাজির হতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরীর নেতৃত্বে এই বোর্ডের সদস্যরা শনিবার কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়াকে দেখে আসেন।
বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক হারিসুল হক, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক আবু জাফর চৌধুরী, চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তারেক রেজা আলী ও ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বদরুন্নেসা আহমেদ।
সরকারের ‘পছন্দ অনুযায়ী প্রতিবেদন’ তৈরির পরিকল্পনা থেকে ‘অনুগত ও পছন্দের লোকদের’ দিয়ে এই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপি নেতারা বলে আসছেন এই বোর্ডে তাদের নেত্রীর ‘উপযুক্ত’ ও ‘সঠিক’ চিকিৎসা হবে তারা বিশ্বাস করেন না।
আগে যারা খালেদার চিকিৎসা করতেন, তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নতুন করে মেডিকেল বোর্ড গঠনের পাশাপাশি তাকে ঢাকার ইউনাইটেড বা অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তির দাবি করেছে বিএনপি নেতারা।



