
ভারতের নীরবতা: ইসরায়েলি হামলায় ইরানের পাশে দাঁড়াতে দ্বিধা কেন?
ভারত নিজেকে বারবার বিশ্বের সামনে তুলে ধরছে একটি উদার গণতন্ত্র, মানবিক মূল্যবোধের ধারক, এবং বৃহৎ উদারনৈতিক শক্তি হিসেবে। কিন্তু যখন ইসরায়েল ইরানের উপর বিমান ও ড্রোন হামলা চালায়, তখন ভারতের নীরবতা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়।
বিশ্বের অনেক দেশ যেখানে এই আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে, ভারত সেখানে “কৌশলগত ভারসাম্য” বজায় রাখার নামে একপ্রকার নৈতিক দ্বিধা প্রকাশ করছে।
ভারতের স্বার্থের ঘূর্ণিপাক
ভারতের এই নীরবতার পেছনে রয়েছে একাধিক কৌশলগত স্বার্থ:
১. ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সম্পর্ক:
ভারত বহু বছর ধরে ইসরায়েলের কাছ থেকে সেনা প্রযুক্তি, গোয়েন্দা যন্ত্র এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম আমদানি করে আসছে। এমনকি ভারতের বহু সেনা ঘাঁটিতে ইসরায়েলি ড্রোন ও সার্ভেইল্যান্স প্রযুক্তি ব্যবহার হয়।
২. ইরানের সঙ্গে শক্তির বন্ধন:
আবার ইরান ভারতকে জ্বালানি তেলের বড় একটি উৎস হিসেবে কাজ করে, এবং চাবাহার বন্দর উন্নয়ন—যা ভারত-আফগানিস্তান-মধ্য এশিয়া কানেক্টিভিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ—তার উপর নির্ভর করে রয়েছে ভারতের কৌশল।
৩. মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বিশাল ভারতীয় প্রবাসী জনগোষ্ঠী:
ভারত চায় না যে তার অবস্থান নেয়ার ফলে মুসলিম বিশ্ব কিংবা ইহুদি বিশ্বের কোনো অংশে অসন্তোষ তৈরি হোক।
নৈতিকতা বনাম কূটনীতি
প্রশ্ন হচ্ছে, যখন একটি রাষ্ট্র “মানবতার রক্ষাকর্তা” বলে নিজেদের পরিচয় দেয়, তখন কি তার উচিত নয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া?
ভারত যদি সত্যিই গণতন্ত্র, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়াতে চায়, তবে ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও সমানভাবে কণ্ঠ তুলতে হবে—চীন বা রাশিয়া নয়, ভারতের দাবি “মরাল পাওয়ার”-এর ওপর।
নীরবতা কি অনুমোদন?
নিন্দা না জানানো মানেই কি নীরব সমর্থন?
যখন একটি পরমাণু সমৃদ্ধ দেশ আরেক দেশের ভৌগোলিক সীমানায় আঘাত হানে, তখন তা শুধু দুটি দেশের বিষয় নয়—তা গোটা অঞ্চলের, এমনকি বিশ্বের নিরাপত্তার বিষয় হয়ে ওঠে।
উপসংহার
ভারতের উচিত হবে নৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করা—চুপ করে থাকলে নেতৃত্ব দাবি করা যায় না।
যদি সত্যিই ভারত “বিশ্বগুরু” হতে চায়, তবে তাকে নৈতিক দায়িত্ব নিতে হবে।
আর এই দায়িত্ব কখনো কৌশলগত স্বার্থের মুখে মাথা নত করে পালন করা যায় না।



