
মাইলস্টোন: আমাদের দায়িত্বহীনতার স্মারক

শাহ্ জে. চৌধুরী
উত্তরার মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি আবারও এক নিষ্ঠুর সত্য আমাদের সামনে এনেছে, যেটা আমরা বারবার এড়িয়ে যাই—প্রতিটি ধ্বংসস্তূপের আড়ালে লুকিয়ে থাকে দায়িত্বহীনতার নিঃশব্দ স্রোত।
সকালবেলায় শিশুরা বই নিয়ে স্কুলে গিয়েছিল, জানতো না তারা ভেঙে পড়া ব্যবস্থার অসাবধানতার পাঁশে হেঁটে যাচ্ছে। প্রাণগুলো crushed হয়ে গেলো, পরিবারগুলো খালি হয়ে গেলো, আর দেশ—প্রতিবারের মতো—দূঃখের ম্লান নীরবতায় ঢুকে পড়লো।
আমরা শোককে সাজাই কালো ফিতা আর ফেসবুক পোস্ট দিয়ে। মোমবাতি জ্বালাই, চোখের পানি মুছি। তারপর? আমরা ভুলে যাই।
আমরা সবসময় ভুলে যাই।
কিন্তু এবার ভুলবার সুযোগ নেই।
এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়; এটা অবহেলার একটি অপরাধ। কেউ নিয়মকে এড়িয়ে গেলো, কেউ চোখ বন্ধ করে দিলো, কেউ সিদ্ধান্ত নিলো নিয়ম মানা অপশনাল—আর শিশুরা জীবন দিয়ে দামে দিলো সেই অবহেলা।
আর কত মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি হতে হবে আমাদের শিখবার জন্য? কতজন বাবা-মা তাদের সন্তানকে শ্মশানে পাঠাতে হবে আমাদের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য?
শোক বুকে ধারণ করেও যদি কেউ জবাবদিহি না চায়, তাহলে সেটা রাগের ভান ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা যদি সত্যিই সচেতন হই, তাহলে ন্যায়বিচার দাবি করব—শুধুমাত্র মাইলস্টোনে মারা যাদের জন্য নয়, আমাদের দেশের প্রতিটি অরক্ষিত স্কুলের প্রতিটি শিশুর জন্য।
মাইলস্টোন যেন শুধু তরুণ প্রাণের সমাধিস্থল না হয়, বরং একটি জাগরণের ডাক হয়। একটি পরিবর্তনের সূচনা হয়। আমাদের সমবেত উদাসীনতায় একটি ফাটল হয়ে দাঁড়ায়।
আমরা তাদের কাছে দায়ী যারা আমরা ব্যর্থ হয়েছি—আর যাঁরা এখনও বাঁচার জন্য অপেক্ষা করছে—তাদের জন্য নিশ্চিত করব, যেন আর এমন দুর্ভাগ্য আর না ঘটে।
শোক যথেষ্ট নয়। পরিবর্তনই একমাত্র শ্রদ্ধা যা মাইলস্টোনের ধ্বংসস্তূপে রেখে যাওয়া যায়।



