প্রধান খবরভারত

‘মা, আমি চিপস চুরি করিনি’, জনসমক্ষে মারধর, অপমানের পর ১২ বছরের শিশুর সুইসাইড নোট

ভারতের পশ্চিম বঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় এক প্যাকেট চিপস চুরির অভিযোগে প্রকাশ্যে কানে ধরে উঠবসসহ নানাভাবে অপমানিত হওয়ার পর কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেছে ১২ বছর বয়সী এক শিশু।

শুক্রবার স্থানীয় পুলিশ কৃষ্ণেন্দু দাস নামে সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রের আত্মহত্যার খবর নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

কৃষ্ণেন্দুর মা পুলিশকে বলেছেন, তার ছেলে গোসাইবাজারের একটি দোকানে চিপস কিনতে গিয়ে সেখানে দোকানিকে কয়েকবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে চিপসের একটি প্যাকেট হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসে।

সেই মুহূর্তে দোকানদার শুভঙ্কর দীক্ষিত দোকানে ফিরে কৃষ্ণেন্দুকে চুরির দায়ে অভিযুক্ত করেন এবং ছেলেটিকে চড় মারেন এবং সবার সামনে কান ধরে উঠবস করান।

এরপর কৃষ্ণেন্দুর মা নিজেও দোকানে এসে ছেলেকে বকাবকি করেন, চড় মারেন। সেসময় কৃষ্ণেন্দু বলেছিল, দোকানের বাইরে থেকে চিপসের একটি প্যাকেট তুলে নিয়েছিল এবং পরে এসে দাম দিয়ে যেত।

এক পর্যায়ে সে না বলে প্যাকেট নেওয়ায় ক্ষমা চায় এবং তখনি দাম পরিশোধ করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তু সেসময় দোকানদার তাকে মিথ্যাবাদী অ্যাখ্যা দেয়।

অপমানিত কৃষ্ণেন্দু পরে ঘরে ফিরে নিজের কক্ষে ঢুকে দরজা আটকে দেয়। তাকে অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে মা ও প্রতিবেশীরা পরে দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখেস- কৃষ্ণেন্দুর মুখে ফেনা, পাশে পড়ে আছে একটি আধখালি কীটনাশকের বোতল।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার হয়েছে, যা কৃষ্ণেন্দুর লেখা বলে মনে করা হচ্ছে। সেখানে সে লিখেছে- “মা, আমি চোর নই। আমি চুরি করিনি। আঙ্কেল দোকানে ছিলেন না, অনেক ডাকাডাকি করেও পাইনি। ফেরার সময় রাস্তার পাশে পড়ে থাকা একটা কুরকুরে (চিপস) প্যাকেট হাতে তুলে নিই। আমি কুরকুরে পছন্দ করি।”

চিরকুটে আরও লেখা ছিল, “এইটাই আমার শেষ কথা। এ কাজের (কীটনাশক খাওয়া) জন্য আমাকে ক্ষমা করে দিও।”

তাকে তড়িঘড়ি করে তমলুক হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে আইসিইউতে ভর্তি করা হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি।

এ ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, দোকানদার শুভঙ্কর দীক্ষিত একজন সিভিক ভলান্টিয়ারও, যিনি ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সহায়তা করেন। প্রথমে তিনি কৃষ্ণেন্দুকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করলেও ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দোকান বন্ধ করে এলাকা থেকে সরে পড়েন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension