বাংলাদেশ

মোহাম্মদ নাসিমের অবস্থা সংকটাপন্ন, গভীর কোমায়

করোনায় আক্রান্তের পর ব্রেনস্ট্রোক করা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গভীর কোমায় রয়েছেন। তার অবস্থা আজ রোববারও অপরিবর্তিত। নাসিমের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড এ তথ্য জানিয়েছে।

মোহাম্মদ নাসিমের সবশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে মেডিকেল বোর্ডের সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া রোববার দুপুরে যুগান্তরকে বলেন, উনার অবস্থা অপরিবর্তিত। গত ২৪ ঘণ্টায় তার অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয় নি। মেডিকেল বোর্ড শনিবার বিকাল ৪টায় তাকে যে রকম দেখেছে, আজও তার অবস্থার কোনও পরিবর্তন নেই।

মোহাম্মদ নাসিম অচেতন অবস্থায় আছেন জানিয়ে ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, তার জ্ঞান কখন ফেরে সেটি বোঝা যাচ্ছে না। এ অবস্থায়ই আরও অনেক সময় থাকতে পারেন।

মোহাম্মদ নাসিমের সিটিস্ক্যান করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তিনি কোমায় আছেন। সিটিস্ক্যান করার মতো অবস্থায় তিনি নেই। সিটিস্ক্যান করতে গেলেও ঝুঁকি। অবস্থার উন্নতি হলে সিটিস্ক্যান করা হবে।

তিনি জানান, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পালস গতকাল যে রকম ছিল এখনও সে রকম আছেন। এখনও ভেন্টিলেশনে আছেন। শ্বাস-প্রশ্বাস আগে যে রকম ছিল এখনও সে রকমটাই আছেন।

নাসিম সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন জানিয়ে কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, তিনি কোনও সাড়া দিচ্ছেন না এবং এ মুহূর্তে গভীর কোমায় আছেন।

রোববার নাসিমের ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় গণমাধ্যমকে জানান, বাবার অবস্থার উন্নতি-অবনতি নেই। অবস্থা আগের মতোই।

মোহাম্মদ নাসিমের ব্যক্তিগত সহকারী আশরাফুল আলম মিন্টু জানান, বোর্ড মিটিংয়ে নাসিমকে ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ নিবিড় পর্যবেক্ষণ আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।

এর আগে মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছিলেন দেশের প্রখ্যাত নিউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।

শনিবার মেডিকেল বোর্ডের সভা শেষে তিনি বলেন, মোহাম্মদ নাসিম বহুদিন ধরেই ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন। ব্লাড প্রেশারও আছে। এরই মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর পর আবার ব্রেনস্ট্রোক করেছেন। সব মিলে তার অবস্থা সংকটাপন্নই।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর গত সোমবার থেকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহাম্মদ নাসিম।

বৃহস্পতিবার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় শুক্রবার তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তরের কথা ছিল। কিন্তু শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় স্ট্রোক করায় অবস্থার অবনতি ঘটে।

পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রাজিউল হকের নেতৃত্বে তার মস্তিষ্কে সফল অস্ত্রোপচার করা হয়। ⛘

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension