প্রধান খবরবাংলাদেশ

সাজেক সড়কে অবরোধ অব্যাহত, রিসোর্টের ৬০ শতাংশ বুকিং বাতিল

রাঙ্গামাটির সাজেক সড়কে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে অবরোধ ও সংঘর্ষের জেরে সাজেকের রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে পর্যটকদের আগাম কক্ষ বুকিং বাতিল হতে শুরু করেছে।

আজ শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষিপ্তভাবে অবরোধ পালন করেন আন্দোলনকারীরা। যান চলাচল বন্ধ থাকলেও সাজেকের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, তাদের অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় প্রায় শতাধিক সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আটজন গুরুতর আহত।

তিনি অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধার কারণে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও নেওয়া যাচ্ছে না। তবে নিজেদের উদ্যোগে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে সাজেকের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক। সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ও পুলিশের অভিযান চলছে।

বৃহস্পতিবারের ঘটনায় মামলা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে ওসি বলেন, মামলা হবে। এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে।

রিসোর্ট-কটেজের কক্ষ বুকিং বাতিল

দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সড়ক অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখার পর সাজেক ভ্যালি ভ্রমণে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ১৬ অক্টোবর থেকে পর্যটকেরা সাজেকে যাওয়া শুরু করেন। অনেকে আগাম রিসোর্ট ও কটেজের কক্ষ বুকিং দেন।

তবে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে সাজেক সড়কে আবারও অবরোধ ও সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় আগাম বুকিং বাতিল হতে শুরু করেছে।

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সাজেকে প্রায় ১২০টি রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। এসব রিসোর্ট-কটেজে একসঙ্গে তিন হাজারের বেশি পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর ১৬ অক্টোবর থেকে সেখানে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে অবরোধ শুরু হওয়ায় আগের বুকিংগুলো বাতিল করছেন পর্যটকেরা।

সাজেক রুইলুই হলিডে রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মিশু দে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, দুর্গাপূজার আগে থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁদের রিসোর্টের সব কক্ষ বুকিং ছিল। তবে বৃহস্পতিবার থেকে অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনার পর শুক্রবার সকাল থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ বুকিং বাতিল হয়েছে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বাকি বুকিংগুলোও বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, সাজেকের অনেক রিসোর্ট ও কটেজে ২৫, ২৮ ও ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত কক্ষ বুকিং ছিল। অবরোধ ও অস্থিরতার কারণে সেসব বুকিং বাতিল হচ্ছে। শুক্রবারও অনেক বুকিং বাতিল হয়েছে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে বুকিং বাতিল হতে থাকলে এবং পর্যটকেরা সাজেকে আসতে না পারলে পর্যটন খাতে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। বৃহস্পতিবার সকালে সেনাবাহিনীর পাহারায় সব পর্যটককে সাজেক থেকে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে আর কোনো পর্যটক নেই।

স্থানীয় সংগঠনগুলো সাজেক থেকে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)-এর সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের প্রত্যাহার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension