রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহেদের কাছে জালিয়াতি নতুন কিছু নয়
শাহেদের বাবার দেওয়া নাম মো. শাহেদ করিম। সেই নামের পাশাপাশি আরেকটি জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেছেন মোহাম্মদ সাহেদ নাম দিয়ে। এ ক্ষেত্রে তিনি পুরান ঢাকার ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করেন। শাহেদ নিজেকে কখনও পরিচয় দিতেন মেজর ইফতেখার আহম্মেদ চৌধুরী, কখনও কর্নেল ইফতেখার আহম্মেদ চৌধুরী বা মেজর শাহেদ করিম নামে। ব্যবহার করতেন ‘দৈনিক নতুন কাগজ’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকের পরিচয়ও। তথ্য অধিদপ্তর থেকে ইস্যু করা প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডও আছে তার।
রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের শেষ নেই। প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ছিল রিজেন্টের মালিক শাহেদের মূল কৌশল। সরকারের মন্ত্রী, এমপি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সরকারি আমলাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তোলা অসংখ্য সেলফি তার ফেইসবুক পেইজের শোভা বর্ধন করে চলেছে। বলা হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধে ফাঁসিতে ঝোলা জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলী এবং দুর্নীতির দায়ে জেলে থাকা গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা ছিল শাহেদের।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অফিস দখলে রাখা, আর মাসের পর মাস ভাড়া বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে রিজেন্ট গ্রুপের বিরুদ্ধে। মিরপুরে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে এখনও অর্ধকোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবী ভবন মালিকের। আর উত্তরায় রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ের ভাড়া বকেয়া রয়েছে ৮ মাসের।
ভবন মালিক অভিযোগ করেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও দখলে রেখেছে রিজেন্ট গ্রুপ। বকেয়া রয়েছে ৮ মাসের ভাড়া। টাকা চাইলে দেওয়া হতো হুমকি। কোভিড রোগীদের পরীক্ষা না করে রেজাল্ট দেওয়াসহ নানা অপরাধে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বন্ধ করে দেওয়া হয় রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখা।
উত্তরা শাখা সিলগালা করে দেওয়ার পর রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর শাখাও এখন বন্ধ। হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় ঝুলছে তালা। চলে গেছেন রোগীরা। শাখার প্রধান নির্বাহী রাশেদসহ অন্য কর্মকর্তারাও হাসপাতাল থেকে লাপাত্তা।
হাসপাতালের সামনেও দেখা যায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহেদের ছবির ব্যবহার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের বর্তমান ও সাবেক মহাপরিদর্শকের ছবির টাঙিয়ে প্রভাব খাটানো হতো।
ভবন মালিকের অভিযোগ, দুই বছরের সমান ভাড়া বকেয়া রয়েছে রিজেন্ট হাসপাতালের কাছে। দিতেন না অন্যান্য বিলও।
বাড়ির মালিক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েছেন। এবং উনি যখন আসে তখন সঙ্গে অস্ত্র নিয়ে কয়েকজন থাকে।
করোনার ভুয়া সনদ দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে গত মঙ্গলবার রাতে সাহেদসহ রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের ১৭ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেছে র্যাব। এ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা হলো। মঙ্গলবারের মামলায় র্যাবের অভিযানে আটক ৭ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গতকাল আদালতের মাধ্যমে তাদের ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে, শাহেদের বাবার দেওয়া নাম মো. শাহেদ করিম। সেই নামের পাশাপাশি আরেকটি জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেছেন মোহাম্মদ সাহেদ নাম দিয়ে। এ ক্ষেত্রে তিনি পুরান ঢাকার ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করেন। শাহেদ নিজেকে কখনও পরিচয় দিতেন মেজর ইফতেখার আহম্মেদ চৌধুরী, কখনও কর্নেল ইফতেখার আহম্মেদ চৌধুরী বা মেজর শাহেদ করিম নামে। ব্যবহার করতেন ‘দৈনিক নতুন কাগজ’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকের পরিচয়ও। তথ্য অধিদপ্তর থেকে ইস্যু করা প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডও আছে তার।
তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য পরিচয় দিতেন। রিজেন্ট হাসপাতাল, রিজেন্ট ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, রিজেন্ট কেসিএস লিমিটেড, রিজেন্ট আইটি, কর্মমুখী কর্মসংস্থান সোসাইটি ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদের বহুমুখী প্রতারণা, জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় বিস্মিত তদন্তসংশ্লিষ্টরা। তিনি চ্যানেল আইর তৃতীয় মাত্রাসহ বিভিন্ন টক শোতে রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে ‘গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও বিশ্লেষণ’ দিতেন। নিজেকে জাহির করতেন ‘অতি আওয়ামী লীগ’ হিসেবে।
২০০৯ সালে প্রতারণার অভিযোগে পুলিশ ও র্যাব শাহেদকে গ্রেপ্তার করেছিল। ওই মামলার কাগজপত্রে দেখা যায়, খুলনার একটি টেক্সটাইল মিলের জন্য দু টনের ১০টি ও দেড় টনের ১৫টি এসি সরবরাহের কার্যাদেশ পেয়েছিল শাহেদ করিমের প্রতিষ্ঠান। জিনিসপত্র নিয়ে ১৯ লাখ টাকার চেক দিয়েছিলেন রাইজিং শিপিং অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি এবং রাইজিং রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহেদ করিম। অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় চেকটি পাস হয় নি। ওই ঘটনায় মামলা করেছিল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটি।
রিজেন্ট হাসপাতালে যারা করোনা উপসর্গ নিয়ে পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিয়েছেন তারাও এখন চরম আতঙ্ক এবং ভয়ের মধ্যে আছেন। প্রতারিত রোগীরা র্যাবের কাছে ধরনা দিয়ে নিশ্চিত হতে চাইছেন তাদের দেওয়া কভিড-১৯-এর সনদ আসল না নকল। গত দুদিনে অন্তত তিন হাজার ভুক্তভোগী র্যাব কর্মকর্তাদের ফোন করেছেন। র্যাব জানিয়েছে, তাদের কাছে ৬ হাজার রোগীর রিপোর্ট রয়েছে। সেগুলো যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
শাহেদ সম্পর্কে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাসেম গতকাল বুধবার বলেন, ‘শাহেদ কিছুতেই দেশ ছেড়ে পালাতে পারবেন না। সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাকে ধরতে একাধিক টিম মাঠে আছে এবং তিনি আমাদের নজরদারিতে আছেন। সাহেদ এত মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন যে চাইলেও পালাতে পারবেন না। সাধারণ মানুষই তাকে ধরে ফেলতে পারবে। তার পক্ষে বেশীদিন ‘আত্মগোপন’ করে থাকা সম্ভব নয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতারক শাহেদকে যে কোনও সময় আটক দেখানো হবে। র্যাবের পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তার বিষয়ে কাজ করছেন।’
আরেক কর্মকর্তা জানান, বছর তিন-চারেক আগে শাহেদ নিয়মিত পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কক্ষে ঘোরাঘুরি করতেন। ঘন ঘন টক শোতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি নিজের প্রভাব বাড়িয়েছেন। নিজেকে উত্তরা মিডিয়া ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও পরিচয় দিতেন তিনি।
অভিযান পরিচালনাকারী র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে বিনামূল্যে কভিড-১৯ চিকিৎসার চুক্তি স্বাক্ষরের নামে আসলে হঠকারিতা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তারা রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের বিল নিয়েছে। রিজেন্টের কম্পিউটার অপারেটর আমাদের বলেছেন, চেয়ারম্যান নিজে ব্যক্তিগতভাবে এসব করিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি ২ মাসে আড়াই থেকে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। টাকাগুলো কোথায় গেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘শাহেদ ও তার সহযোগীদের অর্থ পাচারের বিষয়টি তারা অনুসন্ধান করছেন। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার আইনে মামলা করা হবে। এছাড়া তার অর্থ কোথায় কোথায় গেছে সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
র্যাবের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে তার নানা অপকর্মের কথা জানতে পেরেছি। বিভিন্ন সময় তিনি প্রতারণার দায়ে আটক হয়েছিলেন, জেলও খেটেছেন। মিথ্যা ও প্রতারণাকে হাতিয়ার করেই তার উত্থান। তার অনেক বেনামি প্রতিষ্ঠানও আছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি কোনও অনুমোদন নেন নি। চার-পাঁচ বছর ধরে নিজেকে কথিত বুদ্ধিজীবী বা রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে পরিচয় দিতেন শাহেদ। সেন্টার ফর পলিটিক্যাল রিসার্চ বা রাজনীতি গবেষণা কেন্দ্র নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালান তিনি।
সবই জেনেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর:
জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিচালক বায়েজীদ খুরশিদ রিয়াজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে গত ৭ জুন একটি চিঠি দিয়েছিলেন রিজেন্টের অপকর্ম নিয়ে। চিঠিতে বলা হয়, রিজেন্ট হাসপাতাল নমুনা পরীক্ষার জন্য সাড়ে তিন হাজার টাকা করে আদায় করছে। অথচ সরকার বিনামূল্যে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করে দিচ্ছে। নিপসম থেকে পরীক্ষার ফলাফল জানানোর জন্য যে এসএমএস প্রত্যেক নমুনা প্রদানকারীকে পাঠানো হচ্ছে, তাতেও বিনামূল্যে এই সেবা দেওয়ার বার্তা থাকছে।
ওই চিঠির পরও অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা রিজেন্ট থেকে দিনে ৫০টি নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে জানতে নাসিমা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেন নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের দাবী, শুরুতে কোনও বেসরকারি হাসপাতাল কোভিড রোগীর চিকিৎসা দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছিল না। তাই তারা সরল বিশ্বাসে রিজেন্টকে দায়িত্ব দেন।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব একটি গণমাধ্যমকে বলেন, এমন একটি হাসপাতালকে চিকিৎসার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয় নিয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। ক্ষমতাবানরা এর পেছনে থাকতে পারেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ সায়েন্সেস (বিআইএইচএস) সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিল। চিঠিও দিয়েছিল। টাকাপয়সাও চাওয়া হয় নি। তারপরও বিআইএইচএসকে অনুমতি দেওয়া হয় নি। রশিদ-ই-মাহবুবের ধারণা, এমন পর্যায় থেকে এই সিদ্ধান্ত এসেছে, যা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের নেই।
র্যাবের মামলার আসামিরা হলেন রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ (৪৮), ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভেজ (৪০), হাসপাতাল কর্মচারী তরিকুল ইসলাম (৩৩), স্টাফ আবদুর রশিদ খান (২৯), স্টাফ শিমুল পারভেজ (২৫), কর্মচারী দীপায়ন বসু (৩২), আইটি বিশেষজ্ঞ মাহবুব (৩৩), আইটি বিশেষজ্ঞ সৈকত (২৯), সাহেদের ব্যক্তিগত সহকারী ও আইটি বিশেষজ্ঞ পলাশ (২৮), প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহসান হাবীব (৪৫), এক্স-রে টেকনিশিয়ান আহসান হাবীব হাসান (৪৯), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হাকিম আলী (২৫), রিসিপশনিস্ট কামরুল ইসলাম (৩৫), রিজেন্ট গ্রুপের প্রজেক্ট অ্যাডমিন রাকিবুল ইসলাম ওরফে সুমন (৩৯), রিজেন্ট গ্রুপের এইচআর অ্যাডমিন (রিজেন্ট করপোরেট অফিস) অমিত বণিক (৩৩), গাড়িচালক আবদুস সালাম (২৫), প্রধান কার্যালয়ের হিসাব শাখার নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রশীদ খান জুয়েল (২৮)। আসামিদের মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার দেখানো ৭ জনের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল বুধবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তারা হলেন আহসান হাবীব, আহসান হাবীব হাসান, হাকিম আলী, রাকিবুল ইসলাম, অমিত বণিক, আবদুস সালাম ও আবদুর রশিদ খান জুয়েল। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার পরিদর্শক আলমগীর গাজী।❑



