বাংলাদেশ

তাহসিফের মৃত্যুর আগে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মিলল যে দৃশ্য

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক সামরিক পাইলট ও কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর আগে বাসা থেকে বের হওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়। ফুটেজে সবুজ পাঞ্জাবি পরা তাহসিফকে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে ও হাত মেলাতে দেখা যায়। এ সময় পাশে একটি নীল রঙের মোটরসাইকেল চালু অবস্থায় ছিল। পরে তাদের দুজনকে ওই স্থান থেকে চলে যেতে দেখা যায়।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাসার নিচতলার সিসিটিভি ফুটেজে এসব দৃশ্য দেখা যায়। ফুটেজে তাহসিফকে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে ও হাত মেলাতে দেখা যায়। পাশে থাকা মোটরসাইকেলটির হেডলাইটও জ্বলছিল। পরে দুজনকে সেখান থেকে চলে যেতে দেখা যায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম গণমাধ্যমকে জানান, ২৭ অক্টোবর সারাদিন পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করেন তাহসিফ। এ সময় মাকে সঙ্গে নিয়ে বাবাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্যও কেনাকাটা করেন তিনি। সন্ধ্যার পর দীপ নামের এক জুনিয়র ছোট ভাইয়ের ডাকে বাসা থেকে বের হন। এরপর আর ফিরে আসেননি।

তাহসিফের বাবা বলেন, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে ছেলের কাছ থেকে ‘আম্মু আমি আসছি’ লেখা একটি মেসেজ পেয়েছিলেন তারা। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ভোর সোয়া ৫টার দিকে পুলিশের দেওয়া তথ্যের মাধ্যমে ছেলের মরদেহের সন্ধান পান তারা।

তিনি আরও জানান, রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় এর আগে কখনো যাননি তাহসিফ।

তাহসিফের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে তার বাবা জানান, শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়। ওই সময়ে আরও কয়েকজনকেও বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তাহসিফ।

তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকা রেঞ্জের নৌ-পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, তাহসিফের শরীরে কোনো আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ সাউরি। বুধবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় নৌ-পুলিশ। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার এক আত্মীয়কে খবর দেওয়ার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে দেশত্যাগের যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটি তাহসিফ ছড়িয়েছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে।

গত ২১ জুলাই ইউটিউবের ‘স্পিক উইথ রশীদ’ চ্যানেলে প্রকাশিত এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তাহসিফ এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, আমার মনে হয়, ‘গণমাধ্যমে’ যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে, সেটি দিয়ে তারা আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য কী, আমি জানি না। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে লেখা হয়েছে, আমি ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু আমি ভিডিওটি ধারণ করেছি, এমন কথা তারা বলেনি। তারা বলেছে, রিফাত আশরাফি ভিডিওটি ধারণ করেছেন এবং আমি সেটি ছড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু আমি যদি ভিডিওটি ধারণ করেও থাকি বা ছড়িয়েও থাকি, তাহলে এর প্রমাণ কী? আমি সেটি জানতে চাই। এটাও হতে পারে, এ কারণেই হয়তো আজ আমি বিমানবাহিনীতে নেই।’

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension