যুক্তরাষ্ট্র

নির্বাচনে হেরে ব্রাজিল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পালালেন বলসোনারো

ব্রাজিলের নির্বাচনে পরাজিত হয়ে রীতিমতো নাটকের জন্ম দিলেন ডানপন্থী সিনেটর ফ্ল্যাভিও বলসোনারো। পরাজয়ের গ্লানি সামলাতে না পেরে অবশেষে সপরিবারে দেশ ছেড়ে পালালেন যুক্তরাষ্ট্রে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) উড়োজাহাজ থেকে নেমে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে মায়ামি-ওপা-লক্কা এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন ফ্লাভিও বলসোনারো। এর আগে স্থলপথে আর্জেন্টিনা গিয়ে এবং সেখান থেকে ইকুয়েডর হয়ে বিশেষ ফ্লাইটে ওঠেন তারা।
রয়টার্সসহ প্রভাবশালী একাধিক গণমাধ্যমের প্রকাশিত ফুটেজে তাদের বিমান থেকে নামতে ও বিমানবন্দরের ভেতরে যেতে দেখা গেছে। মায়ামি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের এড়িয়ে পুলিশের কড়া সুরক্ষায় একটি গাড়িতে করে স্থান ত্যাগ করেন ফ্লাভিও।

ব্রাজিলের সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফ্লাভিও বলসোনারোর জয়ের সম্ভাবনা ব্যাপকভাবে দেখছিলেন পর্যবেক্ষকরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে অল্প ভোটের ব্যবধানে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন লুলা দ্য সিলভা। পরাজিত হওয়ার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা আত্মগোপনে থেকে দেশ ছাড়ার ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এই পলায়নের পরিকল্পনাটি হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। নির্বাচন হারলে কী করা হবে, তার অংশ হিসেবে ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারোর মাধ্যমে প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে এই ছক তৈরি করা হয়েছিল।

এদিকে বলসোনারো পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমোদন দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার মেরিল্যান্ডে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি তারা ভালো মানুষ। নির্বাচনটা খুব অদ্ভুত ছিল। আর এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও এখন দেখা যাচ্ছে। তাদের শেয়ার বাজারের অবস্থাটা দেখুন কী হলো। আমি কারো পক্ষ নিইনি। আমি লুলাকে চিনি, ফ্ল্যাভিওকেও কিছুটা চিনি। আর তার বাবাকে তো খুব ভালো করেই চিনি। তার বাবার সাথে সত্যিই খুব অন্যায় করা হয়েছে। আমি এমনটাই মনে করি, তবে আমি এসবে জড়িত ছিলাম না। ”

২০২২ সালে লুলার কাছে নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন ফ্ল্যাভিও বলসোনারোর বাবা জইর বলসোনারোও। তবে তার সমর্থকরা রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় সরকারি ভবনগুলোতে হামলা চালানোর পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে জইরকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে, মূলত অপরাধমূলক মামলার বিচার এড়াতেই এই পলায়নের পথ বেছে নিয়েছেন ফ্ল্যাভিও। তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগসহ দুটি ফৌজদারি মামলার তদন্ত চলছে। তিনি দেশ ছাড়তে পারেন—এমন আশঙ্কায় ব্রাজিলিয়ান পুলিশ তার পাসপোর্ট জব্দের আবেদন জানালেও তা কার্যকর হওয়ার আগেই সপরিবারে সীমান্ত পার হলেন তিনি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension