
মার্কিন নির্বাচনে টাকার দাপট: কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধ!
নির্বাচনী প্রচারে $৩.১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় বাইরের রাজনৈতিক গোষ্ঠীর; বিজ্ঞাপন ব্যয় ছাড়াতে পারে $১১.৬ বিলিয়ন—ধনকুবের ও সুপার পিএসির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক
শাহ্ জে. চৌধুরী :
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের লড়াই এখন বিপুল অর্থের প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে। বিলিয়নিয়ার, রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি (পিএসি), সুপার পিএসি এবং বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর অর্থায়ন নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। Anadolu Agency-এর ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে প্রার্থীদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর ব্যয় ইতিমধ্যে প্রায় ৩.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত AdImpact-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের মোট ব্যয় ১১.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিজ্ঞাপন ব্যয় ছিল প্রায় ৮.৯ বিলিয়ন ডলার। এই বৃদ্ধি মার্কিন নির্বাচনে অর্থের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
ধনকুবেরদের বিপুল অর্থায়ন
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত The Washington Post-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত ৫০টি বৃহত্তম দাতা-উৎস থেকে মোট ২.৭৭ বিলিয়ন ডলার এসেছে। ব্যক্তিগত দাতাদের মধ্যে ইলন মাস্কের অনুদান ৪৪৬ মিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রিচার্ড ও এলিজাবেথ উহলিন দিয়েছেন ১৫০ মিলিয়ন ডলার এবং জেফ ও জেনিন ইয়াস দিয়েছেন ১১০ মিলিয়ন ডলার।
নির্বাচনী অর্থায়নের ক্ষেত্রে সুপার পিএসিগুলো গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। প্রার্থীদের প্রচারণা থেকে স্বাধীনভাবে ব্যয় করার শর্তে তারা ব্যক্তি, করপোরেশন ও শ্রমিক সংগঠন থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। ফলে প্রার্থীদের নিজস্ব তহবিলের বাইরেও নির্বাচনী বিজ্ঞাপন ও প্রচারে বড় অঙ্কের অর্থ প্রবাহিত হচ্ছে।
টেক্সাসের লড়াইয়ে অর্থের বড় ব্যবধান
টেক্সাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাইরের অর্থায়নের প্রভাব তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো নিজের প্রচারণার জন্য ১৪৬.৩ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছেন, যেখানে রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের সংগ্রহ ২২.৩ মিলিয়ন ডলার।
তবে বাইরের রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর ব্যয়ের চিত্র আলাদা। প্যাক্সটনকে সমর্থন অথবা তালারিকোর বিরোধিতায় এসব গোষ্ঠী ২৯৮.৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তালারিকোর পক্ষে বাইরের গোষ্ঠীগুলোর ব্যয় ছিল ৭৯.৯ মিলিয়ন ডলার।
নীতিনির্ধারণে কার প্রভাব বেশি?
ক্রিপ্টোকারেন্সি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক নীতির মতো বিষয়েও বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী নির্বাচনী প্রচারে অর্থ ব্যয় করছে। এর ফলে বড় দাতাদের আর্থিক শক্তি নির্বাচনী বিতর্ক ও ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নির্বাচনী অর্থায়ন সংস্কারের সমর্থকেরা মনে করেন, বিপুল অর্থের প্রভাব রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে অসমতা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, স্বাধীন রাজনৈতিক ব্যয়ের সমর্থকেরা এটিকে মতপ্রকাশের অধিকারের অংশ হিসেবে দেখেন।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন ভোটাররা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণ করবেন। নির্বাচনের ফলের পাশাপাশি বিপুল অর্থের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় দাতাদের প্রভাবও এবারের নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
সূত্র: Anadolu Agency, ২৬ অক্টোবর ২০২৬।



