
লালু প্রসাদের পরিবারে এবার ’নোংরা কিডনি’ বিতর্ক
ভারতের বিহারে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর আরজেডি নেতা লালু প্রসাদের পরিবারেও যেন ঝড় বইছে। তাঁর মেয়ে রোহিণী আচার্য পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ তুলেছেন। বলেছেন, ২০২২ সালে তিনি তাঁর বাবাকে কিডনি দান করেছিলেন। এখন পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, সেই নোংরা কিডনির বিনিময়ে তিনি নির্বাচনের টিকিট কিনেছেন।
রোববার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রোহিণী এসব কথা লিখেছেন। তাঁর বাবা লালু প্রসাদ বিহারের অন্যতম পুরোনো রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) শীর্ষ নেতা। সদ্য অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডির ভরাডুবির জন্য রোহিণীকে দায়ী করছে দলের একটি পক্ষ। এরপরই শনিবার রাজনীতি ও পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন ৪৬ বছর বয়সী রোহিণী।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার আবেগঘন একটি পোস্টে রোহিণী লিখেন, ’বাবাকে বাঁচাতে কিডনি দান করাটাকে এখন পাপ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আমি আমার তিন সন্তানের কথা ভাবিনি, স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির অনুমতি নিইনি- এটাই নাকি বড় পাপ হয়ে গেছে। আমি আমার বাবাকে বাঁচানোর জন্য যা করেছি, আজ সেটিকে নোংরা বলা হচ্ছে।’
আরেক পোস্টে রোহিণী অভিযোগ করেন, ‘আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। এমনকি স্যান্ডেলও দেখানো হয়েছে। আমি আত্মসম্মানে কখনো আঘাত লাগতে দেইনি। সত্যের সঙ্গে আপস করিনি। শুধু এ কারণেই আমাকে এমন অপমান সহ্য করতে হয়েছে।’
বিহার নির্বাচনে আরজেডির ভরাডুবির দায় রোহিনী নিজের কাঁধে নিয়েছেন। রোববার তিনি দাবি করেন, দলের জ্যেষ্ঠ নেতা সঞ্জয় যাদব ও তেজস্বী যাদবের (রোহিণীর ভাই) ঘনিষ্ঠ সহযোগী রমিজ খানের প্ররোচনায় তিনি পরিবারকে ত্যাগ করেছেন এবং রাজনীতি ছেড়েছেন।
সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, নির্বাচনে হারের পর তেজস্বী যাদবের সঙ্গে রোহিণীর প্রচণ্ড বাকবিতণ্ডা হয়। তর্কের সময় তেজস্বী যাদবই নাকি নির্বাচনে পরাজয়ের দোষ চাপান রোহিণীর ওপর। এক সময় বড় বোনের দিকে জুতা তুলেছিলেন। তবে এ বিষয়ে আরজেডির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
তবে মন্তব্য করতে ছাড়েনি বিজেপি। দলটির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য জুতা তোলার প্রসঙ্গ টেনে আরজেডি প্রধানের পরিবারকে পিতৃতান্ত্রিক, নারী বিদ্বেষী আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনাই প্রমাণ করে আরজেডি প্রধানের পরিবারে নারীর প্রতি সম্মান ও মর্যাদার ঘাটতি আছে।
এর আগে ছোট ছেলে তেজ প্রতাপ যাদবকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন লালু। বিহার নির্বাচনের পর রোহিণীকে ঘিরে পরিবারটিতে নতুন সংকট তৈরি হলো। সবশেষ নির্বাচনে তেজ প্রতাপ নিজের গঠন করা দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। কিন্তু সফল হননি।



