
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে ঢাকার কয়েকটি নামি স্কুলের নানা অন্যায়, অনিয়ম এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব এ কথা জানিয়েছেন। অভিভাবকদের কাছ থেকেও পাওয়া যাচ্ছে নানা অভিযোগ। এসব স্কুলে টিউশনসহ বিভিন্ন ফি ঘন ঘন বাড়ানো হয়। ‘সিকিউরিটি মানি’র নামেও নেওয়া হয় হাজার হাজার টাকা। ইংরেজি মাধ্যমের নামে নেওয়া হয় কয়েকগুণ টিউশন ফি।
এমনকি রাজধানীর একটি নামকরা মিশন স্কুলের বিরুদ্ধেও রয়েছে এ অভিযোগ। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে বাধ্য করা, ভর্তি ও গাইড বাণিজ্য, প্রতিষ্ঠানের তহবিল তসরুপ ইত্যাদি অভিযোগও পাওয়া গিয়েছে। অভিভাবকরা এসবের প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়, এমনকি হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় সন্তানের টিসি। এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ শিক্ষকই বেপরোয়া।
এর কারণ হিসেবে খতিয়ে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সন্তানের সংখ্যাই বেশি বলে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা কমিটির অধিকাংশ সদস্যও এই শ্রেণীর প্রতিনিধি। কোনও কোনও ক্ষেত্রে তাদের স্ত্রী-সন্তানরা যোগ দেন শিক্ষক হিসেবে।
ফলে এ ধরনের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিণত হয়েছে তথাকথিত শৃঙ্খলার নামে একধরনের নিপীড়ন কেন্দ্রে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারের উচিত জরুরি ভিত্তিতে এদিকে দৃষ্টি দেওয়া। বস্তুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় সুশাসনের অভাবই এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। যে কোনও প্রতিষ্ঠানের সুশাসন নিশ্চিত করার দায়িত্ব মূলত পরিচালনা কমিটির। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি গঠনেই রয়েছে নানা অনিয়ম, যা দূর করা জরুরি।
বন্ধ করতে হবে এসব কমিটির খবরদারি এবং শিক্ষকদের স্বেচ্ছাচারিতা। কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক মনোবৃত্তি। শিক্ষার বদলে বাণিজ্য প্রাধান্য পাওয়ার কারণেই একশ্রেণীর শিক্ষকের মধ্যে দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে।
এর ফলে অবনতি ঘটছে শিক্ষার গুণগত মানের। শুধু তাই নয়, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও শিক্ষকরা হারিয়ে ফেলছেন তাদের মানবিকবোধ ও নৈতিকতা। শিশু-কিশোরদের মনস্তত্ত্ব সম্পর্কেও এদের কোনও ধারণা নেই। কে কতটা শাসন সহ্য বা ধারণ করতে পারে, এই জ্ঞান ছাড়া সত্যিকার অর্থে শিক্ষক হওয়া যায় না। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সর্বশেষ ঘটনাটিই এর প্রমাণ। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় অবিলম্বে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবে, এটাই কাম্য। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে তা যেন বজায় থাকে সেজন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে।
