
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেওয়ায় যুক্তরাজ্যে প্রতিদিন ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার!
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেওয়ায় যুক্তরাজ্যে হাজার হাজার মানুষকে আটক এবং জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দেশটির পুলিশ। ‘হুমকিস্বরূপ বা আপত্তিকর বলে মনে করা অনলাইন পোস্টের’ জন্য তাদের আটক এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে দাবি। এক পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে দ্য টাইমস এ খবর জানিয়েছে।
গত শুক্রবার (৪ এপ্রিল) প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০০৩ সালের ‘যোগাযোগ আইনের ১২৭ ধারা’ এবং ১৯৮৮ সালের ‘ক্ষতিকারক যোগাযোগ আইনের ১ ধারা’র অধীনে কর্মকর্তারা বছরে প্রায় ১২ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করেন।
এই ব্রিটিশ আইনগুলো ‘গুরুতর আপত্তিকর’ বার্তা অথবা ইলেকট্রনিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ‘অশ্লীল, বা হুমকিমূলক’ বিষয়বস্তু শেয়ার করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে।
এর অধীনে শুধুমাত্র ২০২৩ সালেই পুলিশ বাহিনী ১২ হাজার ১৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। এই পরিসংখ্যান বলে, প্রতিদিন প্রায় ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টাইমস জানিয়েছে, এটি ২০১৯ সালের তুলনায় ৫৮ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ এই গ্রেপ্তার ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই পরিসংখ্যান জনসাধারণের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে। নাগরিক স্বাধীনতা গোষ্ঠীগুলো ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ইন্টারনেটের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি চালানো এবং যোগাযোগ আইন ‘অস্পষ্ট ব্যবহারের মাধ্যমে বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ’ করার অভিযোগ তুলেছে।
দ্য টাইমস ভুক্তভোগীদের ঘটনাও উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে, ম্যাক্সি অ্যালেন এবং রোজালিন্ড লেভিন নামের দম্পতি গত ২৯ জানুয়ারি তাদের মেয়েদের স্কুলের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অভিভাবকদের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এরপর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ছয় জন ইউনিফর্মধারী অফিসার তাদের বাড়িতে এসে ছোট সন্তানের সামনে তাদের আটক করে এবং থানায় নিয়ে যায়। এই দম্পতিকে হয়রানি, বিদ্বেষপূর্ণ যোগাযোগ এবং স্কুলের সম্পত্তিতে ঝামেলা সৃষ্টির সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়েছিল, তল্লাশি করা হয়েছিল এবং আট ঘণ্টা ধরে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল।
অ্যালেন ডেইলি মেইলকে বলেন, আমি যে পুলিশি রাষ্ট্রে বাস করছি, এই অনুভূতিটি ঝেড়ে ফেলা কঠিন! হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাগুলোতে কোনো আপত্তিকর ভাষা বা হুমকি ছিল না বরং একটু ব্যঙ্গাত্মক ছিল।



