
স্বাধীনতার পথে- ৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১
৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১
ভারতীয় বেতারে বলা হয়, লাহোরে দুইজন হাইজ্যাকার কর্তৃক ভারতীয় বিমান উড়িয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর জনতা কতগুলো দোকান এবং বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। একই ঘটনায় আহমেদাবাদে দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা কারফিউ জারি করা হয়।
পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আলতাফ হোসেন সংবাদপত্রে এক বিবৃতির মাধ্যমে অবিলম্বে জাতীয় পরিষদ অধিবেশন আহবানের জন্য প্রেসিডন্টকে অনুরোধ জানান। বিবৃতিতে তারা বলেন, দেশে এক শ্রেণীর প্রতিক্রিয়াশীল ও চরম সাম্প্রদায়িক শক্তি লাহোরে ভারতীয় বিমান হাইজ্যাক এবং তা উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় পরিষদ অধিবেশন আহবান এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিলম্ব ঘটানোর চেষ্টা করছে।
জেনেভার লীগ অব রেডক্রস সোসইটিজের সেক্রেটারি জেনারেল হেনরিক বিয়ার তিনদিনের সফরে ঢাকায় আসেন। ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি বিচারপতি বি. এ. সিদ্দিকী ও বিচারপতি নূরুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান রেডক্রস সোসাইটির ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক আলোচনা বৈঠকে মিলিত হন। ওই আলোচনায় পূর্ব পাকিস্তানের ঘূর্ণিদূর্গত এলাকায় রেডক্রসের সাহায্য ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা করা হয়।
প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী স্যার শিবসাগর রামগোলামকে পাকিস্তান ও ভারতের বর্তমান সম্পর্কের বিষয় অবহিত করেন এবং এই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সকল বিরোধ ও সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। দুই নেতা আন্তর্জাতিক উত্তেজনা হ্রাস ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘ প্রস্তাবাবলী বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দক্ষিণ ভিয়েতনামী স্থলবাহিনী এবং মার্কিন হেলিকপ্টারে দক্ষিণ ভিয়েতনামী প্যারাট্রুপাররা সকালে লাওসে প্রবেশ করে। দক্ষিণ ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট থিউ তার বাহিনীকে লাওসে উত্তর ভিয়েতনামী ঘাঁটিগুলো আক্রমণের নির্দেশ দেন। মার্কিন হাই কমান্ড থেকে বলা হয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ হামলায় বিমান সমর্থন ও সাহায্য দেবে, তবে মার্কিন স্থল বাহিনীর কোনও লোক বা কোনও উপদেষ্টা এতে জড়িত হবেন না।



