প্রধান খবরবাংলাদেশ

১১০০ কোটি টাকা তছরুপ, বিমানের আরও ৮ কর্মকর্তাকে দুদকে তলব

মিশরীয় দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার সময় অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে ১১০০ কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিডেটের আরও আট কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো নোটিশে তাদের আগামী ১১ ও ১২ অক্টোবর হাজির হয়ে বক্তব্য উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

দুদকের তথ্যমতে, মিশরীয় দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার সময় অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে ১১০০ কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ অনুসন্ধানে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আনোয়ারুল হক ও সহকারী পরিচালক জেসমিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত টিম কাজ করছে। অনুসন্ধান টিমের দলনেতা অনুসন্ধানের স্বার্থে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আট কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে হাজির হওয়ার নোটিশ দেন।

নোটিশে আগামী ১১ অক্টোবর বিমানের ম্যানেজার প্লানিং মোহাম্মদ আজাদ রহমান, প্রিন্সিপাল সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার জিএম ইকবাল, জেনারেল ম্যানেজার আজরা নাসরিন রহমানকে হাজির হতে বলা হয়। আর আগামী ১২ অক্টোবর জেনারেল ম্যানেজার সিএম খায়রুল আলম, কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্ট এএসএম মনজুর ইনাম, চিফ অব টেকনিক্যাল হাসান ইমাম, জেনারেল ম্যানেজার মো. বেলায়েত হোসেন ও উইং কমান্ডার (অব.) এমএম আসাদুজ্জামানকে হাজির হতে বলা হয়।

এদিকে একই অভিযোগে এর আগে গত ১৯, ২০ সেপ্টেম্বর ও ২ অক্টোবর আটজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

দুদকের টেবিলে থাকা এ সংক্রান্ত অভিযোগে বলা হয়, ২০১৪ সালে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ইজিপ্ট (মিশর) এয়ার থেকে বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর নামের দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেয় বিমান। ইঞ্জিনগুলো প্রায় ১২ থেকে ১৫ বছরের পুরোনো হওয়ায় উড্ডয়ন যোগ্যতার মেয়াদকাল কম থাকায় লিজ আনার পর এক বছর না যেতেই ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি উড়োজাহাজের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়।

পরে উড়োজাহাজ সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে আরেকটি ইঞ্জিন ভাড়ায় নেওয়া হয়। এর দেড় বছর পর এটিও নষ্ট হয়ে যায়। তখন ইঞ্জিন মেরামত করতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি।

এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় ইজিপ্ট এয়ার ও মেরামতকারী কোম্পানি উভয়কেই অর্থ দিতে হয়েছে বিমানকে। এভাবে ইজিপ্ট এয়ার ও মেরামতকারী কোম্পানির পেছনে পাঁচ বছরে বাংলাদেশ বিমানের খরচ হয়েছে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা। দুটি উড়োজাহাজের জন্য প্রতি মাসে বিমান ১১ কোটি টাকা করে ভর্তুকি দিয়ে আসছিল। এভাবে পাঁচ বছরে দেশের ক্ষতি হয় ১১০০ কোটি টাকা।

এ অর্থ তছরুপের বিষয়টি একাদশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তদন্তে ওঠে আসে। এরপরই এ ঘটনা অধিকতর তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে দুদকে সুপারিশ পাঠায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

দুদক ওই সুপারিশ আমলে নিয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এরপর দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন ও সহকারী পরিচালক জেসমিন আক্তারের সমন্বয়ে একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিনকে ঢাকার বাইরে বদলির পর টিমের প্রধান করা হয় উপপরিচালক আনোয়ারুল হককে।

জানা গেছে, দুদকের অনুসন্ধানী টিম অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. আবু সালেহ্ মোস্তফা কামালের দপ্তরে চিঠি পাঠান। দুদকের পাঠানো চিঠিতে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার দরপত্রসহ ১৩ ধরনের নথিপত্র দ্রুত সময়ের মধ্যে দুদকে পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠি পেয়ে নথিপত্র পাঠানো হয় দুদকে। এরপর অভিযোগের সঙ্গে জড়িত হিসেবে আটজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension