
সাগরে কয়েকশ’ নৌকা ও বিপুলসংখ্যক ‘মেরিটাইম মিলিশিয়া’
চীনের নৌশক্তি বৃদ্ধি নিয়ে একৃাধিকবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সাগর নিয়ন্ত্রণে পশ্চিমাদের নৌ মডেলের বাইরে চীন যে নিজস্ব মডেল তৈরি করছে এটা অনেক দিন ধরেই বলা হচ্ছিল। সেই আলোচনাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে সম্প্রতি ম্যাক্সার টেকনোলজি দক্ষিণ চীন সাগরের কিছু স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে সাগরে কয়েকশ’ নৌকা ও বিপুলসংখ্যক ক্রুর উপস্থিতি দেখা গেছে। পশ্চিমা দেশগুলো চীনের এই নৌকাবহর ও ক্রুদের বলছে ‘মেরিটাইম মিলিশিয়া’। চীন সরকার ব্যতিক্রমী এই নৌবহরের অস্তিত্ব স্বীকার না করলেও তারা যে মিলিশিয়া হিসেবে কাজ করতে পারে তা অস্বীকার করেনি।
পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ চীন সাগর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের অংশ হিসেবেই চীন এই ভাসমান মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করেছে। নীল রঙের ওই নৌকাগুলো ও এর ক্রুরা সরাসরি চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির অর্থায়নে চলে। গত মাসে প্রথমবারের মতো এই মিলিশিয়া বাহিনীর অস্তিত্ব আলোচনায় আসে। ফিলিপাইনের হুইটসান রিফ এলাকা কিছু সময়ের মধ্যেই চীনের দুই শতাধিক মাছধরা নৌকা ঘিরে ধরে। দক্ষিণ চীন সাগরে কৌশলগত দিক বিচারে ওই রিফ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। হুইটসান রিফের ঘটনাকে উল্লেখ করে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) বিশ্লেষকরা বলছেন, তারা এর আগে এমন কোনো ঘটনা প্রত্যক্ষ করেননি।
আইআইএসএসের দুই সিনিয়র ফেলো সমির পুরি ও গ্রেগ অস্টিন সিএনএনকে বলেন, ‘হুইটসান রিফের ঘটনা নজিরবিহীন এর সময়ের জন্য। চীনের বিপুলসংখ্যক মাছধরা নৌকা অল্প সময়ের মধ্যে রিফটি ঘিরে ধরে। শুধু তাই নয়, কয়েক সপ্তাহ ধরে সেখানে অবস্থানও করে।’ হুইটসানের ঘটনায় ফিলিপাইন প্রতিবাদ জানিয়ে বলে, চীনের ওই নৌকাগুলোর উপস্থিতি তাদের জন্য হুমকির মতো। ম্যানিলা নৌকাগুলোকে হুইটসান রিফ ছেড়ে যাওয়ার জন্য দাবি জানায় পেইচিংয়ের কাছে। যদিও দীর্ঘদিন ধরেই পেইচিং ওই রিফটি নিজেদের জলসীমার অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে।
রিফের ঘটনা প্রসঙ্গে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিয়াং বলেন, ‘সমুদ্রের অবস্থা বিবেচনা করে কিছু মাছধরা নৌকা হুইটসানে আশ্রয় নিয়েছিল। এটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। আমরা আশা করি প্রাসঙ্গিক পক্ষগুলো একে যৌক্তিক দৃষ্টিতে দেখবে।’ তবে ম্যানিলায় চীনের দূতাবাস চীনের মেরিটাইম মিলিশিয়া বলে কিছু নেই বলে জানায় এক বিবৃতিতে।
ইউএস প্যাসিফিক কমান্ডের সাবেক নির্বাহী প্রধান কার্ল সুস্টারের মতে, ‘দ্য পিপলস আর্মড ফোর্সেস মেরিটাইম মিলিশিয়ারা মাছ ধরে না। তাদের কাছে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র রয়েছে, যেগুলো ক্লোজ রেঞ্জে খুবই বিপজ্জনক। এ ছাড়া তাদের নৌকাগুলোর গতি প্রায় ১৮ থেকে ২২ নটের মধ্যে। ফলে বিশ্বের যেকোনো মাছধরা নৌকার থেকে তাদের গতি ৯০ শতাংশ বেশি।’
এই মিলিশিয়ারা চীনের সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাষ্ট্রীয়ভাবে এদের নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সেনাবাহিনীর যেমন চেইন অব কমান্ড রয়েছে, তেমনি এই মিলিশিয়া বাহিনীরও কমান্ড সেন্টার রয়েছে। চীনের এই মিলিশিয়া বাহিনীর অধীনে ১ লাখ ৮৭ হাজার নৌকা রয়েছে বলে প্রকাশিত। কিন্তু এর সঠিক সংখ্যা স্পষ্ট নয় বলে মনে করেন পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন তাদের থার্ড সী ফোর্স নিয়ে শুরু থেকেই বেশ গোপনীয়তা বজায় রেখেছে। এই ফোর্সের সদস্যসংখ্যা ১০ হাজারের বেশি হতে পারে বলে তারা মনে করেন। দক্ষিণ চীন সাগরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ২০১৬ সালে পেইচিং এই বাহিনী গঠন করে।❐



