
শাহানাজ শিউলী
বুকের ভিতর এক গভীর উত্তেজনা,
একটি কবিতা লিখব বলে,
কিন্তু কি লিখবো? কাকে নিয়ে লিখব? কি হবে কবিতার মর্মকথা?
ভাবতে ভাবতে ক’টা রাত পেরিয়ে গেল।
শব্দরাও এলো না চেতনার আঙিনায়,
চেতনার সীমাবদ্ধ গণ্ডিতে প্রকৃতির সবই যেন চিতার আগুনে জ্বলছে ।
জ্বলছে তপ্ত সমীরের কুণ্ডলীতে,
ধর্ষিত শব্দরা বলল—
হে কবি, কলম ধরো, লেখ
বৃক্ষহীন মহাশ্মশানের কথা,
দেখ ,মন্দাকিনীর দেহ পিঞ্জরে ফসলের চাষ,
মধ্যরাতের ফেউগুলোর মরণ কান্না,
দাঁড় কাকের তৃষ্ণার্ত আঁখি,
ডানাভাঙা বাঁদুড়ের ঝাপটানি।
দেখ, বসুধার সংহার প্রয়াণের মিছিল,
বিশ্ব নিখিল পান করেছে নিকোটিনের বিষ,
দেখ ধরিত্রীর ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত।
আমি স্তব্ধ, আমার কলম আস্তে আস্তে থেমে গেল।
কালো কালো অক্ষরগুলো ভিজে গেল কলমের বেদনার অশ্রুধারায় ।
আমার দু চোখে বেড়ে গেল বহ্নিজালা ।
ঝলসিত শব্দরা অকাতরে আছড়ে পড়লো শুভ্র খাতায়।
ধূসর ক্লান্তি মাড়িয়ে বহু কষ্টে করেছিলাম শব্দের চাষ।
খরতপ্ত মধ্যাহ্নে রৌদ্রলাভায় বিলীন হলো কবিতার প্যাকেজ,
আমার পলকহীন দৃষ্টি হতে দু’ফোঁটা তপ্ত অশ্রু গড়িয়ে পড়ল জননীর বুকে।



