
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট থেকে প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। এ কারণে সৈয়দ ইবরাহিমকে দল থেকে বহিষ্কার ঘোষণা দিয়েছেন কল্যাণ পার্টির কয়েকজন নেতা। নতুন কমিটিও ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ হয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে থাকা দলটির নেতারা।
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান শামছুদ্দিন পারভেজ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি রবিবার রাতে ছড়িয়ে পড়ে গণমাধ্যমগুলোতে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের নির্বাহী কমিটির ৪১ নেতাকে নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়েছেন শামছুদ্দিন পারভেজ, যিনি আগে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৈয়দ ইবরাহিম দলের নির্বাহী কমিটির অধিকাংশ নেতার মতামতকে তোয়াক্কা না করে ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে নির্বাচনী জোটে ভিড়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনকে বৈধতা দিতে প্রার্থী হয়েছেন। এজন্য তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাহী কমিটির দুই–তৃতীয়াংশ সদস্যের বৈঠকে মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ইবরাহিমকে পার্টির সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে প্ররোচিত করায় মহাসচিব আবদুল আউয়াল ও অতিরিক্ত মহাসচিব আবদুল্লাহ আল হাসানকেও স্থায়ীভাবে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সরকার পতনের আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে রয়েছে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি। আন্দোলনে সক্রিয় ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্রও ছিলেন সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। কিন্তু ২২ নভেম্বর হঠাৎ করেই তিনি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন । ঢাকা-৫ ও ঢাকা-১৪ এবং কক্সবাজার-১ আসন থেকে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নেন ইবরাহিম।
ঘটনাক্রমে, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। টিকে যায় কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের মনোনয়ন। এ নিয়ে নানান জল্পনার মধ্যেই কল্যাণ পার্টি থেকে তার বহিষ্কারের খবর এলো।
বহিষ্কারের বিষয়ে সৈয়দ ইবরাহিম বলেন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত একটি রাজনৈতিক দল। তাতে কেউ চেয়ারম্যানের অনুমতি ছাড়া দলের নাম ব্যবহার করতে পারবে কি না, সেটা আগে তারা বুঝুক।



