আন্তর্জাতিক

ইকুয়েডরের গ্যাং লিডারের স্ত্রী-সন্তানকে বের করে দিল আর্জেন্টিনা

দশ দিন আগে ইকুয়েডরে টিভির লাইভ অনুষ্ঠানে ঢুকে বন্দুকধারীর হামলায় ১০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িত কুখ্যাত গ্যাং লিডার অ্যাডলফো মাসিয়াস ভিয়ামারের স্ত্রী ও সন্তানকে বের করে দিয়েছে আর্জেন্টিনা।

অ্যাডলফো মাসিয়াস ভিয়ামার দেশটির সন্ত্রাসী চক্র লস চনেরোসের হোতা। মাদক পাচার, খুনসহ বিভিন্ন সংঘবদ্ধ অপরাধের দায়ে তাঁর ৩৪ বছরের দণ্ড হয়েছে। গত ৭ জানুয়ারি তিনি ইকুয়েডরের কারাগার থেকে পালিয়ে যান।

ফিতো নামে পরিচিত মাসিয়াসকে খুঁজে বের করতে ইকুয়েডরজুড়ে চলছে জরুরি অবস্থা।

আর্জেন্টিনার নিরাপত্তামন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাডলফো মাসিয়াস ভিয়ামার পরিবারকে দেশ থেকে বের করে দিয়ে আর্জেন্টিনা প্রমাণ করেছে, তারা মাদক–অপরাধীদের প্রশ্রয় দেয় না।

গতকাল শুক্রবার উড়োজাহাজে পুলিশের জিম্মায় থাকা অবস্থায় মাসিয়াসের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনের ভিডিও প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষ।

দেশ নিরাপত্তামন্ত্রী প্যাট্রিশিয়া বুলরিখ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আর্জেন্টিনার কর্ডোবা শহরের একটি বাড়ি থেকে মাসিয়াসের সহযোগী ও পরিবারের সদস্যসহ মোট আটজনকে আটক করে ইকুয়েডরে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গিলের্মো ফ্রাঙ্কোস বলেন, আর্জেন্টিনা অপরাধীদের আস্তানা হবে না।

মাসিয়াস ওরফে ফিতোকে আটক করে ইকুয়েডরে চলমান সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনের চেষ্টা করছে সরকার। গত আগস্টে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ফার্নান্দো ভিয়াভিসেনসিওকে গুলি করে হত্যার সঙ্গে ফিতো জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মধ্য আমেরিকার দেশটিতে গত ১০ জানুয়ারি টিভির লাইভ অনুষ্ঠান চলাকালে সম্প্রচারকক্ষে ঢুকে পড়ে একদল বন্দুকধারী। তাদের হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হন। এই ঘটনায়ও মাসিয়াস ওরফে ফিতোর গ্যাং জড়িত বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা।

৪৪ বছর বয়সী ফিতোর বিরুদ্ধে কারাগারে সহিংসতা চালানোর অভিযোগও রয়েছে। গত ৭ জানুয়ারি গুয়ায়াকিল শহরের কারাগার থেকে উধাও হয়ে যান তিনি। এরপরই মাদক চক্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়া; ঘোষণা করেন ৬০ দিনের জরুরি অবস্থা এবং রাত্রিকালীন কারফিউ।

গত বছরের নভেম্বরে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন তরুণ ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক নোবোয়া। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিজের প্রত্যয়ের কথা জানান তিনি। এরপর এটাই নোবোয়ার সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ।

ইকুয়েডরের কারাগারে বন্দীদের উপচে পড়া ভিড় কমাতে বিদেশি অপরাধীদের নির্বাসনের পরিকল্পনাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বেশ কয়েক দিনের দাঙ্গার পর কারাগারগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে বলে চলতি সপ্তাহে দেশটি দাবি করেছে। তবে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন দেশের পরোয়ানাভুক্ত কুখ্যাত আসামি ফিতো।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুসারে, ফিতোর খোঁজে কলম্বিয়া সরকারকে তল্লাশি চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট নোবোয়া। প্রতিবেশী দেশটি বেশ কয়েকটি শক্তিশালী মাদক চক্রের ঘাঁটি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension