ভারত

আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ, মোদি ও রাহুলকে ইসির নোটিশ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে নির্বাচনি আরচণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) এ বিষয়ে নোটিশ দিয়ে দুই নেতার কাছে জবাব চেয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন-ইসি। আগামী ২৯ এপ্রিল সকাল ১১টার মধ্যে সেই জবাব দিতে হবে। তবে নোটিশে নরেন্দ্র মোদি কিংবা রাহুল গান্ধী মূল অভিযুক্ত দুজনের কারও নামই উল্লেখ করা হয়নি।

এবারই প্রথমবার কোনো নির্বাচনে দলীয় কর্তাদের প্রচারণার ভাষণে লঙ্ঘনের জন্য দায়ি করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৭৭ ধারার অধীনে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি মোদি ও রাহুলের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে ভোট চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুই নেতার দল থেকে পরস্পরের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে নালিশও জানানো হয়।

এরপরই তাদেরকে সতর্ক করে নোটিশ পাঠায় কমিশন।

মোদির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল কংগ্রেস, সিপিআই ও সিপিআই (এমএল)। আর রাহুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এতেই সাড়া দিয়ে বৃহস্পতিবার দুই দলকে নোটিশ দিয়েছে কমিশন।

তবে এ নোটিস পাঠানো হয়েছে বিজেপি’র সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেকে। দুই পাতার এ নোটিসে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারকা প্রচারকদের কাছ থেকে উচ্চ মানের বক্তৃতা আশা করা হয়, কিন্ত অনেক সময় নির্বাচনের উত্তাপে তারা নিম্ন স্তরে নেমে আসে। এক্ষেত্রে বিজেপির জেপি নাড্ডা ও কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে তাদের তারকা প্রচারকদের আচরণ ও মন্তব্যে রাশ টানতে বলা হয়েছে।

হায়দরাবাদে কংগ্রেস নেতা রাহুল মন্তব্য করেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে কোন শ্রেণির হাতে কত সম্পদ আছে, তা আর্থ-সামাজিক সমীক্ষা করে দেখবে। সেই মন্তব্যের রেশ ধরেই গত রবিবার রাজস্থানের বাঁশওয়ারায় জনসমাবেশে মোদি বলেন, কংগ্রেস তার ইশতেহারে দেশের সম্পদ মুসলমানদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মোদি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ অতীতে বলেছিলেন, দেশের সম্পদে সর্বাগ্রে অধিকার মুসলিমদের। সেই কারণেই সমীক্ষা করার পরিকল্পনা নিয়েছে কংগ্রেস। যাতে দেশবাসীর কষ্টার্জিত অর্থ মুসলিম এবং অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া যায়।

পরদিন সোমবার উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে সমর্থকদের উদ্দেশে মোদি বলেন, ‘কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে মা-বোনেদের মঙ্গলসূত্র ছিনিয়ে নেবে। মোদির সেই মন্তব্যের নিন্দা করে সরব হয় কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো। ইসির কাছে অভিযোগ করে তারা। আর রাহুলের বিরুদ্ধে ভাষা ও অঞ্চলের ভিত্তিতে ঘৃণা ও বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগ তুলে কমিশনের দ্বারস্থ হয় বিজেপি।

সম্প্রতি ভারতের নির্বাচনি প্রচারণায় কংগ্রেস ও মুসলমানদের সরাসরি আক্রমণ করে বক্তব্য দেয়ার প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখেছেন প্রায় ২০ হাজার নাগরিক। যে চিঠিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তারা বলছে, নির্বাচনি জনসভায় মোদি যা বলেছেন, তা ভয়ংকর। কমিশন ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনি সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বশাসনের চরিত্রকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে। তবে হাজার হাজার নাগরিকের চিঠির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি নির্বাচন কমিশন।

সূত্র: রয়টার্স

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension