
রাজনীতির ঊর্ধ্বে ঐক্য: জিমি কার্টারের শেষকৃত্যে একটি শিক্ষা
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ৯৯ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। এক মানবিক নেতা
হিসেবে তাঁর জীবনের পরিসমাপ্তি বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। তবে তাঁর শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে যা সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে, তা হল আমেরিকার রাজনৈতিক নেতৃত্বের এক বিরল ঐক্যের দৃশ্য। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের বর্তমান ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্টরা একত্রিত হয়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিভাজনের এই সময়ে এমন দৃশ্য সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। যাঁরা নির্বাচনী প্রচারের সময় একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াইয়ে নামেন, তাঁদেরকেই দেখা গেল একসঙ্গে দাঁড়িয়ে দেশের প্রতি তাঁদের একাত্মতা প্রকাশ করতে। তাঁদের আদর্শগত বিভেদ থাকলেও, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাঁরা একসুরে কথা বলতে জানেন। এটাই প্রকৃত দেশপ্রেমের পরিচয়—দেশকে ভালোবেসে দলের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া।
এই বিষয়টি বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর সঙ্গে এক তীব্র বৈপরীত্য তৈরি করে। আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন বিদ্বেষ কাজ করে যে কারও মৃত্যুর পরও তারা একত্রিত হতে পারেন না। বিভেদ এতটাই গভীর যে জাতীয় স্বার্থের চেয়েও পার্টির স্বার্থ বড় হয়ে দাঁড়ায়। এই মানসিকতা কেবল জাতির ঐক্য নষ্ট করে না, দেশের অগ্রগতির পথেও বাধা সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশ এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আমেরিকা থেকে শিক্ষা নেওয়ার সময় এসেছে। প্রকৃত দেশপ্রেম শব্দে নয়, কাজের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও, যখন নেতারা জাতীয় স্বার্থে একত্রিত হন, তখন তারা জনগণের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করেন এবং দেশের ভবিষ্যত উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলেন।
জিমি কার্টারের জীবন এবং তাঁর শেষকৃত্যের ঐক্যের বার্তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সম্মান, সহযোগিতা এবং উন্নয়নের জন্য একটি যৌথ দৃষ্টিভঙ্গি একটি দেশের প্রকৃত শক্তি। বাংলাদেশের নেতাদের এই উদাহরণ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত এবং বুঝতে হবে যে নেতৃত্বের প্রকৃত পরিচয় বিভাজন তৈরি নয়, বরং ঐক্য গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ নির্মাণ করা।



