
তিনবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না কেউ: ঐকমত্য কমিশন
বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে নতুন প্রস্তাব হিসেবে এসেছে– কেউ তিনবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। তবে টানা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী হওয়া যাবে না। দুইবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর, বিরতি দিয়ে তৃতীয় এবং শেষবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়া যাবে।
প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন ঐকমত্য কমিশন সূত্র সমকালকে জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে নতুন এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ছিল, কেউ জীবনে দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। বিএনপি বলছে, টানা দু’বারের বেশি না পারলেও বিরতি দিয়ে যতবার খুশি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ রাখতে হবে। এ সুযোগ সংকুচিত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
গতকাল রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপি এবং ঐকমত্য কমিশনের দিনভর বৈঠকের দ্বিতীয় পর্বে প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ নিয়ে আলোচনা হয়। মধ্যাহ্ন বিরতিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ নিয়ে দলীয় মতই পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকের পর বিকেলে তিনি বলেন, ‘কমিশন আরেকটি প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে মতামত জানাবে বিএনপি।’ কমিশন কী প্রস্তাব দিয়েছে, তা বলেননি সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, সংবিধান সংস্কারের যেসব সুপারিশে বিএনপি একমত হচ্ছে, সেগুলোও পরবর্তী সংসদে বাস্তবায়ন করা হবে। জুলাই সনদে সব দলই অঙ্গীকার করবে। যে-ই ক্ষমতায় যাক, ঐকমত্য হওয়া বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করবে।
বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ নিয়ে বিএনপির অনড় অবস্থানের পর কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ প্রস্তাব করেন, প্রধানমন্ত্রী পদ তিন মেয়াদে সীমাবদ্ধ করা যেতে পারে। এতে বিএনপি নেতারা নমনীয়তা দেখিয়েছেন। দলীয় ফোরামে আলোচনার পর মতামত জানানোর কথা বলেন।
সংস্কারের সুপারিশ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দিনব্যাপী বৈঠক করে বিএনপি। সেদিন সংবিধান সংস্কার কমিশনের ৭০ সুপারিশের আংশিক এবং বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের ২৩ সুপারিশের তিনটি নিয়ে আলোচনা হয়। গতকাল দিনব্যাপী বৈঠকেও সংবিধান সংস্কারের সব সুপারিশ নিয়ে আলোচনা হয়নি। সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, নির্বাহী বিভাগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংবিধান সংস্কারের বাকি অংশ নিয়ে আগামী মঙ্গলবার আলোচনা হবে। এর পর নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, দুদক সংস্কারের সুপারিশ নিয়ে আলোচনা হবে।
কমিশনের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনকারী প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার সমকালকে বলেন, গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। বিএনপি নেতারা খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে কমিশনের জিজ্ঞাসার জবাব দিয়েছেন। আরও আলোচনা হবে।



