
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ইরান যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব পাস: ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নতুন চাপ
শাহ্ জে. চৌধুরী | নিউইয়র্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ ক্ষমতা (War Powers) সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস করেছে, যার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান–সংক্রান্ত সামরিক পদক্ষেপের ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ভোটকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসের ওপর একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৫০–৪৮ ভোটে পাস হওয়া এই প্রস্তাবে চারজন রিপাবলিকান সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে এক হয়ে সমর্থন জানান। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান কোনো সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে হলে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
কী আছে এই প্রস্তাবে
প্রস্তাবটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেয়। এতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারবেন না।
যদিও এটি এখনো চূড়ান্ত আইনে পরিণত হয়নি, তবুও সিনেট ও হাউস—উভয় কক্ষে পাস হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট
ভোটে রিপাবলিকান দলের মধ্যেও বিভাজন দেখা গেছে। চারজন রিপাবলিকান সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়ে প্রস্তাবকে সমর্থন করেন, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস এই প্রস্তাবকে প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে এবং এটিকে “প্রতীকী” পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছে।
কংগ্রেস বনাম হোয়াইট হাউস
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোট যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ নীতি নিয়ে কংগ্রেস ও প্রেসিডেন্টের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপকে ঘিরে বিতর্ক আরও গভীর হচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়ানোর আগে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের একটি অংশ মনে করছে, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন।
পরবর্তী পরিস্থিতি
প্রস্তাবটি আইনে পরিণত করতে হলে পরবর্তী ধাপে চূড়ান্ত অনুমোদন এবং সম্ভাব্য প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত।
সব মিলিয়ে এই ভোট যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতি ও যুদ্ধ ক্ষমতা বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে, এবং আসন্ন দিনে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।



