
কানাডায় দ্বিগুণ আকার নিয়ে এগোচ্ছে দাবানল, ঘর ছাড়ছেন হাজার হাজার বাসিন্দা
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সামারল্যান্ড ও ওকানাগান-সিমিলকামিন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ‘বাল্ড রেঞ্জ’ দাবানল এখন ৩৬ বর্গমাইলের (৯৫ বর্গকিলোমিটার) বেশি এলাকা পুড়িয়ে ফেলেছে বলে জানিয়েছে বিসি ওয়াইল্ডফায়ার সার্ভিস
পশ্চিম কানাডার প্রত্যন্ত এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটি দাবানলের কারণে হাজারো মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছে। গত শুক্রবার আগুন শনাক্ত হওয়ার পর থেকে মাত্র একদিনের মধ্যে আগুনের বিস্তৃতি দ্বিগুণ হয়েছে। খবর এপি।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সামারল্যান্ড ও ওকানাগান-সিমিলকামিন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ‘বাল্ড রেঞ্জ’ দাবানল এখন ৩৬ বর্গমাইলের (৯৫ বর্গকিলোমিটার) বেশি এলাকা পুড়িয়ে ফেলেছে বলে জানিয়েছে বিসি ওয়াইল্ডফায়ার সার্ভিস।
ওকানাগান-সিমিলকামিন জেলার জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এরিক থম্পসন বলেন, আগুনপ্রবণ এ এলাকায় এত অল্প সময়ে এত দ্রুত ও বড় আকারে দাবানল ছড়িয়ে পড়তে তিনি খুব কমই দেখেছেন। গতকাল সকাল পর্যন্ত আগুন ছিল ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’।
সামারল্যান্ড প্রায় ১২ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা শনিবার সকালে জানান, পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা ইন্টেরিয়র হেল জানিয়েছে, সামারল্যান্ডের বিভিন্ন সেবাকেন্দ্র ও বয়স্কদের আবাসনে থাকা শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড এবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘রাতভর এবং আজ সকাল পর্যন্ত জরুরি সেবাকর্মী, বিসি ওয়াইল্ডফায়ার সার্ভিসের কর্মী, রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি), জরুরি ব্যবস্থাপনা দল এবং স্থানীয় বাসিন্দারা মানুষকে নিরাপদ রাখতে ও সামারল্যান্ডের কাছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।’
তিনি বলেন, মানুষ ও জনবসতি রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
দাবানলে এখন পর্যন্ত কতগুলো স্থাপনা পুড়ে গেছে, তা এখনো জানা যায়নি।
কাছাকাছি ওকানাগান, পিচল্যান্ড এবং ওকানাগান-সিমিলকামিন এলাকায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ এবং কিছু এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় থম্পসন ওকানাগান-সিমিলকামিনের জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র থেকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাচ্ছিলেন। কিন্তু পরদিন সকালে গাড়িতে ধারণ করা এক ভিডিওতে তিনি জানান, নিজের পরিবারকে সরিয়ে নিতে তাকেও জরুরি কেন্দ্র ছাড়তে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাকে জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র (ইওসি) ছেড়ে পরিবারকে নিয়ে আসতে হয়েছে। আমরা দক্ষিণ দিকে যাচ্ছি।’
ওকানাগান এলাকায় অনেক বাসিন্দার কাছে ঘোড়া রয়েছে। কানাডার সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসি জানিয়েছে, এসব ঘোড়া নিরাপদে সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয়রা।
যারা ঘোড়াগুলো সরিয়ে নিতে পারেননি, তারা খোঁয়াড়ের দরজা খুলে দিয়েছেন—যাতে প্রাণীগুলো নিজেরাই নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা সিবিসিকে এ কথা জানিয়েছেন।
কিছু মালিক তাদের ঘোড়ার শরীরে বিশেষ চিহ্নও এঁকে দিয়েছেন, যাতে পরে প্রাণীগুলোকে সহজে শনাক্ত করা যায়।
চলতি গ্রীষ্মে কানাডাজুড়ে শত শত দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। জুলাইয়ে শুধু অন্টারিওতেই প্রায় ২০০টি দাবানল জ্বলছিল। এসব আগুনের ধোঁয়ায় কয়েক দিন টরন্টোর বায়ুর মান বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ শহরগুলোর একটি হয়ে উঠেছিল।
কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা ও নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন এলাকায়ও পৌঁছায়। এর জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।



