আন্তর্জাতিক

ন্যাটোর প্রতিরোধ ক্ষমতা পরীক্ষায় সীমিত হামলা চালাতে পারেন পুতিন: মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন

ন্যাটোর সংহতি ও প্রতিরোধ ক্ষমতা পরীক্ষা করতে কয়েক বছরের মধ্যে জোটভুক্ত কোনো দেশের ওপর সীমিত হামলা চালাতে পারেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গোয়েন্দা তথ্যের আলোকে শুক্রবার এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগে ওয়াশিংটনের ধারণা ছিল, ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন পুতিন ন্যাটোর ওপর হামলা চালিয়ে নতুন করে সংঘাত বাড়াবেন না। তবে চলতি বছরের শুরুতে নতুন মূল্যায়নে দেখা যায়, ইউক্রেন যুদ্ধে প্রত্যাশিত জয় না আসা এবং ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও সামরিক চাপের কারণে পুতিন নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন। বিশেষ করে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সেনাবাহিনী ও জ্বালানি খাত বিপর্যস্ত হয়ে পড়া এবং ব্যাপক প্রাণহানির কারণে মস্কোর ওপর চাপ দিন দিন বাড়ছে।

মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া দেখতে এরই মধ্যে কিছু উসকানিমূলক বা মহড়া হামলা চালিয়েছে করছে রাশিয়া। সম্প্রতি রোমানিয়ায় রুশ ড্রোন অনুপ্রবেশ এবং পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে রুশ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র গিয়ে পড়ার ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে দেখছে মার্কিন সংস্থাগুলো। পুতিন মনে করছেন, ন্যাটোর ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারাই হতে পারে তার চূড়ান্ত বিজয়ের চাবিকাঠি।

এ বিষয়ে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো হিদার কনলি বলেন, পুতিন হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সাড়া দেবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। ন্যাটোর ওপর বিশ্বস্ততা ও নির্ভরযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে তার ইউরোপীয় মিত্রদের থেকে বিচ্ছিন্ন করাই রাশিয়ার মূল লক্ষ্য।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, সীমিত মাত্রায় স্থলভাগে অনুপ্রবেশ সবচেয়ে চরম পরিস্থিতি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে এর সম্ভাবনা কম। কারণ সরাসরি কোনো ভূখণ্ডে হামলা হলে তা ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদকে (যৌথ প্রতিরক্ষা নীতি) সক্রিয় করবে। তবে সাইবার হামলা বা হাইব্রিড হুমকির ক্ষেত্রে ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রয়োগ পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। কনলির মতে, ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের বাইরে বা হাইব্রিড হামলার ক্ষেত্রে কীভাবে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাবে, সেটাই ন্যাটোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

এদিকে এ তথ্য এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন ইউক্রেনকে সহায়তার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের অস্ত্রের মজুত কমে এসেছে। বিশেষ করে দীর্ঘপাল্লার প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল, এটিএসিএমএস এবং স্বল্পপাল্লার স্টিঙ্গার ক্ষেপণাস্ত্র আশঙ্কাজনক মজুতের তালিকায় রয়েছে বলে রয়টার্স ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষক টম কারাকো জানান, পুতিনের সম্ভাব্য যেকোনো স্থল হামলা প্রতিরোধে এ অস্ত্রগুলো অত্যন্ত জরুরি ছিল।

তবে অস্ত্র ঘাটতির এসব খবর উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখনো বিশাল পরিমাণে অস্ত্রের মজুত রয়েছে এবং চাহিদা মেটাতে আরো নতুন অস্ত্র দ্রুত প্রস্তুত করা হচ্ছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension