বাংলাদেশ

সপরিবারে ফেঁসে যাচ্ছেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুর

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালে সপরিবারে ফেঁসে যাচ্ছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ছিদ্দিকুর রহমান সরকার। ইতোমধ্যে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ এবং তার নিজের ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পেয়েছে দুদকের অনুসন্ধানকারী টিম।

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছিদ্দিকুর রহমান ও তার স্ত্রী গাজী রেবেকা রওশনের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও শেয়ার ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করেছেন আদালত। এ ছাড়া তাদের এবং তাদের দুই সন্তান সামরীন সিদ্দিক ও রাসলাম সিদ্দিক তানজীমের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ছিদ্দিকুর রহমান সরকার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দুদকের পরিচালক আবুল হাসনাতকে প্রধান করে তিন সদস্যের বিশেষ টিম গঠন করা হয়। টিমের অপর দুই সদস্য হলেন- সহকারী পরিচালক বিষাণ ঘোষ ও উপসহকারী পরিচালক আফিয়া খাতুন।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এর আগে দুদক মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। সেখানে বলা হয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে কর্মরত থাকার সময় ছিদ্দিকুর রহমানের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য বৈধ সুযোগ-সুবিধার তথ্য-উপাত্ত এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগে তদন্তের ভিত্তিতে বিভাগীয় ব্যবস্থার নেওয়ার কোনো তথ্য থাকলে তা ১৬ এপ্রিলের মধ্যে দুদকে পাঠাতে হবে।

সে অনুযায়ী ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে কিছু তথ্য-উপাত্ত দুদকে পাঠানো হয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজউকের বোর্ড সভার তথ্য চেয়ে রাজউকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পেয়েছে দুদক। পাশাপাশি ছিদ্দিকুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা আর্থিক লেনদেন ও তাদের নামে থাকা স্থাবর সম্পদের তথ্য চেয়ে বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ভূমি অফিস ও ভূমি নিবন্ধন অফিসেও চিঠি পাঠানো হয়। সেখান থেকেও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। আরও কিছু তথ্য-উপাত্তের অপেক্ষায় আছেন দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা।

এদিকে অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছিদ্দিকুর রহমানকে তলব করে গত ৬ মে নোটিশ দেন অনুসন্ধানকারী টিমের প্রধান আবুল হাসনাত। নোটিশ অনুযায়ী ছিদ্দিকুর রহমানকে গত ১৩ মে বেলা ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ৬০ দিন সময় চেয়ে ১২ মে দুদকে আবেদন করেন। দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খবরের কাগজকে জানান, আইন অনুযায়ী ছিদ্দিকুর রহমান আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ হারিয়েছেন। যদিও এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ছিদ্দিকুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। তথাপি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সব তথ্য-উপাত্ত যাচাই ও পর্যালোচনার পর অনুসন্ধান প্রতিবেদন কমিশনে পেশ করা হবে।

ছিদ্দিকুর রহমান সরকারকে দুই বছর মেয়াদে রাজউক চেয়ারম্যান নিয়োগ করে গত বছরের ৪ এপ্রিল প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। একই বছর ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ১৯ সেপ্টেম্বর তার নিয়োগ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ২২ সেপ্টেম্বর আবার সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে তাকে পুনর্বহাল করা হয়। অবশেষে চলতি বছরের ৮ মার্চে তার নিয়োগ বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকার।

এর আগে ছিদ্দিকুর রহমান সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী ও বাংলাদেশ বিমানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension