
গাজায় খাদ্য সহায়তার জন্য বিদেশি দেশগুলোর বিমান থেকে ত্রাণ ফেলা অনুমোদন দিল ইসরায়েল

শাহ্ জে. চৌধুরী
নিউইয়র্ক , জুলাই ২৬, ২০২৫
গাজা উপত্যকায় চরম মানবিক সংকট ও চরমপন্থী খাদ্যঘাটতির মুখে অবশেষে বিদেশি দেশগুলোর জন্য আকাশপথে ত্রাণ পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল। এটি চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবার, যখন ইসরায়েল গাজার আকাশপথে অ-ইসরায়েলি ত্রাণ বিমানের প্রবেশ অনুমোদন দিল।
জরুরি প্রতিক্রিয়া ও বৈশ্বিক সহায়তা
ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের পর জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স সহ একাধিক দেশ গাজায় বিমান থেকে খাদ্য, পানি ও ওষুধ ফেলার উদ্যোগ নিচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা হলো গাজায় আটকে পড়া দুই মিলিয়নের বেশি মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, যাদের অনেকেই অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করে এসেছে যে, ব্লকেড, হামলা ও সীমিত ত্রাণ প্রবেশের কারণে গাজায় দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর গাজা অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে পুষ্টিহীনতা ও মৃত্যুহার ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইসরায়েলের শর্ত ও ঘোষণা
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন:
“ত্রাণ যেন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে না পড়ে, সেজন্য কড়া নজরদারির মধ্যে নির্দিষ্ট এলাকায় বিমান থেকে ত্রাণ পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।”
এই কার্যক্রম পূর্বানুমোদিত ও পর্যবেক্ষিত হবে এবং নিরপেক্ষ এলাকায় সীমিত থাকবে বলে জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে, তবে একই সঙ্গে স্থলপথে ত্রাণ প্রবেশের দাবিও জোরালো করেছে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) বলেছে:
“বিমান থেকে ত্রাণ ফেলা একান্তই সাময়িক উপশম হতে পারে, তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য অবরোধহীন স্থলপথ চালু করাই সবচেয়ে জরুরি।”
পরবর্তী পদক্ষেপ
বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থাগুলো মনে করছে, এই পদক্ষেপ ইতিবাচক হলেও এটি গাজার অবরোধ ও যুদ্ধ পরিস্থিতির গভীর সংকটকেই প্রতিফলিত করে।
দীর্ঘমেয়াদী মানবিক সমাধানের জন্য চুক্তিভিত্তিক যুদ্ধবিরতি, অবরোধ প্রত্যাহার এবং স্থায়ী ত্রাণপথ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।



