

শাহ্ জে. চৌধুরী
গত ২১ আগস্ট নিখোঁজ হন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার। পরদিন, ২২ আগস্ট তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় মুন্সিগঞ্জের মেঘনা নদী থেকে। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী এটি একটি হত্যাকাণ্ড। অন্যদিকে পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে। এই ঘটনায় শুধু সাংবাদিক সমাজ নয়, সাধারণ মানুষও গভীরভাবে শোকাহত।
বিভু দা জীবদ্দশায় সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো এবং সমাজের জন্য নির্ভীক লেখা লিখতেন। তিনি দীর্ঘদিন মানসিক চাপ ও অবসাদে ভুগছিলেন। তাঁর শেষ প্রবন্ধে তিনি লিখেছিলেন যে তাঁর জীবনে কোনো সফলতার গল্প নেই এবং একজন সাংবাদিক হিসেবে তিনি সবসময় নিজের লক্ষ্য পূর্ণ করতে পারেননি।
বিভুরঞ্জন দার মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সাংবাদিকতার পেশায় নিঃসন্দেহে চাপ ও বিপদের মাত্রা অনেক বেশি। এক অভিজ্ঞ সাংবাদিকের এমন মৃত্যু সাংবাদিক সমাজের জন্য এক গভীর সংকেত। সাংবাদিকদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা, নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত। শুধুমাত্র পরিবারের অভিযোগ ও অনুমান নয়, বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে কারণ উদঘাটন করা প্রয়োজন। যেন ভবিষ্যতে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে সত্য লিখতে পারলেও কোনো ভয়-বিভ্রান্তির মধ্যে না থাকে।
বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যু শুধু একটি ব্যক্তিগত শোক নয়—এটি আমাদের সাংবাদিকতা, সত্য ও ন্যায়ের প্রতি দায়বদ্ধতার স্মারক। আমরা আশা করি, তাঁর মৃত্যু থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র উদ্যোগ নেবে, যেন সাংবাদিকরা নিরাপদে কাজ করতে পারে এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারে।



