যুক্তরাষ্ট্র

সুন্দর অনুষ্ঠানে চীনের উচিত ছিল আমেরিকার কথা উল্লেখ করা: ট্রাম্প

চীনের আয়োজিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের অবদানকে উপেক্ষা করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবসানের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চীনের ‘সুন্দর অনুষ্ঠান’-এ জাপানের পরাজয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখ করা উচিত ছিল।’’

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল এটি একটি সুন্দর অনুষ্ঠান। আমার মনে হয় এটি খুবই মনোমুগ্ধকর।’ এর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ‘বেইজিংয়ে একত্রিত হওয়া বিদেশি নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারেন।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি গত রাতে ভাষণটি দেখেছি। প্রেসিডেন্ট শি আমার বন্ধু, কিন্তু আমি মনে করি যে গত রাতের ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের কথা উল্লেখ করা উচিত ছিল, কারণ আমরা চীনকে অনেক সাহায্য করেছি।’

ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির ৮০তম বার্ষিকীকে তার সরকারের জন্য এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য একটি বড় প্রদর্শনী করে তুলেছেন। রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনের পাশে শি তিয়েনআনমেন স্কয়ারে ৫০,০০০ এরও বেশি দর্শকের সামনে বক্তৃতা দেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে তৈরি বিশাল সৈন্য এবং অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জামের একটি কুচকাওয়াজ পর্যবেক্ষণ করেন। ১৯৩৭ সালে জাপান চীনে হামলা করলে যুদ্ধ বড় রূপ নেয়, যা পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে নিয়ে যায়। ১৯৪৫ সালে জাপান আত্মসমর্পণ করলে যুদ্ধ শেষ হয়। ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র চীনের সেনাদের সাহায্য করে এবং জাপানের পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বর্তমানের রাজনৈতিক লড়াইয়ে শি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে ‘চীনা জাতির মহান পুনরুজ্জীবন’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কুচকাওয়াজ শুরু হওয়ার সময় ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ শিকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, ‘অনুগ্রহ করে ভ্লাদিমির পুতিন এবং কিম জং উনকে আমার উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাবেন, আপনারা যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।’

ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা কোনো ষড়যন্ত্র করছে না এবং ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ট্রাম্পের মন্তব্যটি ব্যঙ্গাত্মক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক এক উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে রয়েছে। ইউক্রেন থেকে দক্ষিণ চীন সাগর পর্যন্ত বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যুতে উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে এবং একে অপরের পণ্যের ওপর শুল্ক রোধ করার জন্য একটি বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মনোমালিন্য জড়িয়ে পড়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension