
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বিরতির মধ্যেই যুদ্ধের বিস্তার, কাস্পিয়ান সাগরে নতুন উত্তেজনা
মার্কিন সামরিক বাহিনী গতকাল জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে টানা ১৩ রাতের বিমান হামলা হঠাৎ কেন বন্ধ রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের টানা হামলায় সাময়িক বিরতি এলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত মিলছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানি তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে তেহরান। খবর রয়টার্স।
মার্কিন সামরিক বাহিনী গতকাল জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে টানা ১৩ রাতের বিমান হামলা হঠাৎ কেন বন্ধ রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বরাবরই কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তবে প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে, তা এরই মধ্যে দেখানো হয়েছে।
এদিন ইরানের পক্ষ থেকেও প্রতিবেশী দেশগুলোয় নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্প আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে হামলা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। পত্রিকাটির তথ্যানুযায়ী, সংঘাত আরো বিস্তৃত হওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা অস্ত্রভান্ডার কমে যাওয়া, পারস্য উপসাগরীয় মিত্রদের অসন্তুষ্টি এবং জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে হোয়াইট হাউজের উদ্বেগ রয়েছে।
সৌদি জ্বালানি তেল স্থাপনায় হুথিদের হামলা
উপসাগরীয় অঞ্চলে আপাত শান্ত পরিস্থিতির মধ্যেই গতকাল সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের হামলা নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি দাবি করেছেন, তারা সৌদি রাষ্ট্রীয় জ্বালানি তেল কোম্পানি আরামকোর জিজান ও ইয়ানবুর স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এবং রয়টার্স যাচাই করা ভিডিওতে জিজানের আরামকো পরিশোধনাগারের দিক থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। এশিয়াভিত্তিক দুটি জ্বালানি বাণিজ্যিক সূত্র জানিয়েছে, জিজানের জ্বালানি ও তেল সংরক্ষণ স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে আরামকো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইয়ানবুতে জ্বালানি তেল স্থাপনার দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবে মোতায়েন থাকা গ্রিক বাহিনীর পরিচালিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।
ইয়ানবু বর্তমানে সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের প্রধান জ্বালানি তেল রফতানি বন্দর। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে এই পথের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। জিজানের পরিশোধনাগারে প্রতিদিন প্রায় চার লাখ ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব।
ইয়েমেনে আবারো যুদ্ধের আশঙ্কা
ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিমান বাহিনী মারিব ও আল-জাওফ প্রদেশে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও অস্ত্রগুদামে হামলা চালিয়েছে।
এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, তারা শুক্রবার লোহিত সাগর উপকূলীয় শহর হোদেইদায় হুথিদের সামরিক অবস্থানে বোমা হামলা চালিয়েছে। তবে বন্দর এলাকায় হামলা চালানো হয়নি বলে দাবি করেছে জোটটি।
ইয়েমেনি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গৃহযুদ্ধের উভয় পক্ষই এখন সম্মুখ সারিতে নতুন করে সেনা সমাবেশ করছে।
২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেনে তুলনামূলক শান্তি থাকলেও চলতি মাসে সেই পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত তীব্র হওয়ার পর হুথিরাও সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে।
গত সপ্তাহে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে হুথিরা। দলটির নেতা আবদুল মালিক আল-হুথি সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবের সব জ্বালানি তেল স্থাপনাই তাদের হামলার লক্ষ্য হতে পারে। গত বৃহস্পতিবারও তারা লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায়।
কাস্পিয়ান সাগরে নতুন উত্তেজনা
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এতে বিস্ফোরণে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে তেহরানে ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরান।
এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক মাধ্যমে কাস্পিয়ান সাগরে ‘দূরপাল্লার হামলার’ সফলতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী জাহাজে হামলার ইঙ্গিত দিলেও কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি।
একই সময়ে জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে হামলা পরিচালনায় সহায়তার জন্য ইরানকে উপগ্রহ থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে।



