বাংলাদেশযুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের ক্রয়প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হচ্ছে, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন সংশ্লিষ্ট ক্রয়প্রক্রিয়া উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত মার্কিন অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে (২০২৫) এ কথা বলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের জন্য চুক্তি ও অনুমোদনের মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। কাজের ক্ষেত্রেও তারা সেটা অনুসরণ করছে। তবে সরকারি ক্রয়চুক্তির বিষয়ে এখন পর্যন্ত অল্প তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে বলা হয়, যে কোনও সরকারি ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে আর্থিজ স্বচ্ছতা। এতে বাজারে আস্থা তৈরি হয় এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ আনে।

২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৪০টি দেশ ও সংস্থার মধ্যে ৭১টি ন্যূনতম স্বচ্ছতার মানদণ্ড পূরণ করেছে। বিপরীতে ব্যর্থ হয়েছে ৬৯টি দেশ। তবে এর মধ্যে ২৬টি দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, সাবেক সরকারের সময় চলমান সব সরাসরি দরকষাকষি বা আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সরকার পরিবর্তনের কারণে দেশের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান সংক্ষিপ্ত ফল প্রকাশ করেছে। নির্দিষ্ট সময়ে সেটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক মানে স্বাধীন নয়।

বাংলাদেশের আর্থিক স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধিতে প্রতিবেদনে কিছু পরামর্শ যুক্ত করা হয়। এরমধ্যে রয়েছে- অর্থবছর শেষে যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা, বাজেট নথি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুযায়ী প্রস্তুত করা, বাজেটে নির্বাহী দফতরগুলোর ব্যয় খাত আলাদাভাবে উপস্থাপন করা, সরকারের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ চিত্র বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা, সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী স্বাধীনতা প্রদান এবং যথেষ্ট সম্পদ ও সময়োপযোগী পূর্ণাঙ্গ বাজেট নথিতে প্রবেশাধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সুপারিশ, বিশ্লেষণ ও পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা প্রকাশ করা, প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের জন্য চুক্তি ও লাইসেন্স প্রদানের তথ্য প্রকাশ করা এবং সরকারি ক্রয়চুক্তির তথ্য জনসমক্ষে আনা।

আগের সরকারের আমলে বাজেট নথি আন্তর্জাতিক মান অনুসারে প্রস্তুত হয়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশের সাবেক সরকার নির্বাহী বাজেট প্রস্তাব ও অনুমোদিত বাজেট প্রকাশ করলেও অর্থবছর শেষে প্রতিবেদন ঠিক সময়ে দেয়নি বলেও উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলা ট্রিবিউন

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension