
তূয়া নূর
তোমার জন্য সমবেত মানুষ অপেক্ষা করে
তোমার একটি নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করে।
ওরা মিছিলের সামনে একটা মানুষ খোঁজে
চাতক পাখির মতো চঞ্চুতে ধারণ করতে চায় এক ফোঁটা জল,
অশীতিপর বৃদ্ধ গগনে যৌবনধারী হতে
হতে পারে গ্রীক ভাস্কর্যের উপমা—
পেশল চোয়ালে জমাট ঘামের লবণ,
কৃষ্ণাভ ঠোঁট খাঁজ কাটা শরীর
যার আরক্তিম চেতনার সুর
সাদা পাঞ্জাবির হাতার মতো পত্ পত্ করে উড়তে পারে বাতাসে
আগ্নেয়গিরির মতো গ্রাস করে নিতে পারে অহল্যা ভূমি
লংমার্চ হতে পারে তীর বল্লম হাতে সাহসী সাঁওতাল যুবক।
তাঁতে বোনা লুঙ্গি পড়ে যে মানুষ বন্যার্ত মানুষের কাছে যেতে পারে আপন জন হয়ে
কে মেনে নেয় তখন অবৈধ দখল, সুকৌশল আগ্রাসন।
যে মুখে একটা শব্দ উচ্চারিত হলে ইথারে ইথারে ভেসে যেতো অনেক দূর
শত্রুর কাছে যেন বিপজ্জনক ক্ষেপণাস্ত্র,
যার একটি বাহু উদ্ধত হলে অহমিকায়–
যার দুটি চোখে ঘৃণার আগুন রক্তজবার মতো জ্বলে উঠলে
উত্তাপে গলে গলে শেষ হয়ে যেত শকুনের কঠিন প্রপেলার।
তোমার জন্যে সমবেত মানুষ অপেক্ষা করে
চোখের মুখে হীরন্ময় দ্যুতি- সাহসের কারুময় ব্যাপ্তি
তোমার তর্জনীর একটি নির্দেশের জন্যে অপেক্ষা করে-
ওরা স্বাধীনতা চায়, স্বাধীনতার নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্ব চায়।



