
রোববারের মধ্যে প্রস্তাব মানতে হামাসকে ট্রাম্পের আল্টিমেটাম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাসকে তার ২০ দফা গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য রোববার সন্ধ্যা ৬টার (যুক্তরাষ্ট্র পূর্বাঞ্চলীয় সময়) মধ্যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। নইলে হামাসের বিরুদ্ধে ‘অভূতপূর্ব সহিংসতা’ শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
শুক্রবার ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, এটি হামাসের জন্য ‘শেষ সুযোগ’।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘চুক্তি না হলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে অন্য উপায়ে।’
গত সোমবার হোয়াইট হাউসে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সফরকালে ট্রাম্প পরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করেন। এতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কোনো রূপরেখা নেই, বরং হামাসকে গাজা শাসন থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে যেতে বলা হয়েছে।
এর বিনিময়ে গাজায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে এবং ইসরাইল ১ হাজার ৪২০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে।
পরিকল্পনায় গাজাকে ‘সন্ত্রাসমুক্ত অঞ্চল’ হিসেবে পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে এবং একটি ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যেখানে ট্রাম্প নিজে নেতৃত্ব দেবেন এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারসহ কয়েকজন নেতা যুক্ত হবেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের কথাও আছে।
ট্রাম্প বলেন, ৭ অক্টোবর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইতোমধ্যেই ২৫ হাজারের বেশি হামাস যোদ্ধা নিহত হয়েছে, বাকিরা ‘অবরুদ্ধ ও ফাঁদে আটকানো।’
তিনি হুমকি দেন, হামাস নেতাদের একে একে খুঁজে বের করে হত্যা করা হবে।
যদিও হামাস জানিয়েছে, তারা প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে এবং শিগগিরই প্রতিক্রিয়া জানাবে।
এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার অভিযোগ করেছেন, জাতিসংঘে আরব ও মুসলিম নেতাদের সামনে যে খসড়া উপস্থাপন করা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশিত পরিকল্পনা তার থেকে ভিন্ন।
সমালোচকরা বলছেন, প্রস্তাবে ইসরাইলের ওপর চাপ নেই এবং ‘বোর্ড অব পিস’ ধারণাটিও অস্পষ্ট। অন্যদিকে গাজায় চলমান ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত ৬৬ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।



