
যৌন অপরাধে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিকের কারাদণ্ড
যৌন নির্যাতনে ফেঁসে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক রাজনীতিক গ্যারেথ ওয়ার্ড। এ অভিযোগে আদালত তাকে ৫ বছর ৯ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বলছে, ৪৪ বছর বয়সী গ্যারেথ ওয়ার্ড জুলাই মাস থেকে কারাগারে আছেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি জুরি তাকে ২০১৩ ও ২০১৫ সালের দুটি পৃথক ঘটনায় এক ব্যক্তিকে ধর্ষণ এবং আরেকজনকে অশোভনভাবে আক্রমণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে।
গ্যারেথ ওয়ার্ড ২০১১ সাল থেকে নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে উপকূলীয় শহর কিয়ামা-এর প্রতিনিধি ছিলেন। ২০২১ সালে অভিযোগ ওঠার পর তিনি লিবারেল পার্টির মন্ত্রীর পদ ত্যাগ করেন। তবে সংসদ সদস্য হিসেবে পদ ছাড়তে অস্বীকার জানান এবং ২০২৩ সালের নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হন। বিচারক কারা শেড এসসি রায় ঘোষণার সময় ওয়ার্ডের আংশিক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতাকে বিবেচনা করেন। কিন্তু বলেন, এ ধরনের অপরাধে কারাদণ্ড ছাড়া অন্য কোনো শাস্তি উপযুক্ত নয়। ওয়ার্ড ভিডিও লিংকের মাধ্যমে পারামাট্টা জেলা আদালতে হাজিরা দেন। তাকে অন্তত তিন বছর নয় মাস কারাভোগ করতে হবে।
এরপরই তিনি প্যারোলের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিচারক আরও বলেন, এ ধরনের অপরাধীদের কঠোর বার্তা দিতে হবে যে যৌন অপরাধের এমন কর্মকাণ্ড কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওয়ার্ড এক দশক ধরে বিচার এড়িয়ে গেছেন এবং সেই সময়টায় তার অপরাধের কোনো শাস্তি বা পুনর্বাসনমূলক কর্মসূচির মুখোমুখি হননি। জুলাই মাসে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ওয়ার্ড সংসদে থেকে যাওয়ার একটি আইনি চেষ্টা করেছিলেন। তবে তা ব্যর্থ হয়। সদস্যরা তাকে বহিষ্কার করার ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি পদত্যাগ করেন।
তার আইনজীবী দল জানিয়েছে, তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করছেন। ওয়ার্ডের নয় সপ্তাহব্যাপী বিচারের শুনানিতে বলা হয়, ২০১৩ সালে তিনি এক ১৮ বছর বয়সী মদ্যপ তরুণকে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে তার প্রতিরোধ সত্ত্বেও তিনবার যৌন আক্রমণ করেন। দুই বছর পর ২০১৫ সালে তিনি এক ২৪ বছর বয়সী রাজনৈতিক সহকর্মীকে পার্লামেন্টে এক অনুষ্ঠানের পর নিজের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ওয়ার্ড দাবি করেন, ২০১৫ সালের ধর্ষণ ঘটেনি এবং ২০১৩ সালের ঘটনাটি অন্য ব্যক্তি ‘ভুলভাবে স্মরণ করেছেন’। তবে প্রসিকিউশন যুক্তি দেয়, দুই ভুক্তভোগীর বিবরণ অসাধারণ মিল। তারা একে অপরকে চিনতেন না। এটাই প্রমাণ করে তারা সত্য বলছেন। তিন দিন আলোচনা শেষে জুরি দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেয়। ওয়ার্ডের পদত্যাগের ফলে গত সেপ্টেম্বর কিয়ামায় উপনির্বাচন হয়। সেখানে লেবার পার্টির প্রার্থী বিজয়ী হন।



