
এপস্টেইন ফাইল নিয়ে ভোটের আগে ট্রাম্প-টেলর বিবাদ তুঙ্গে
কুখ্যাত যৌন নিপীড়নকারী ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের ফাইল প্রকাশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের আগে দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও তার দীর্ঘদিনের মিত্র রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মারজোরি টেলর গ্রিনের বিবাদ প্রকাশ্যেই তুঙ্গে উঠেছে।
ফলে ট্রাম্পের সঙ্গে তারই গোঁড়া সমর্থক টেলর গ্রিনের সম্পর্ক ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত মিলছে। শুক্রবার ট্রাম্প স্যোশাল মিডিয়া পোস্টে গ্রিনকে ‘ক্ষ্যাপাটে’ বলে উল্লেখ করেন।
তাকে আগামী বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পদচ্যুত করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার গ্রিনকে ‘দেশদ্রোহী’ও আখ্যা দেন ট্রাম্প।
সম্প্রতি কয়েকদিনে গ্রিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছিলেন, ট্রাম্প এখনও আমেরিকাকে সর্বাগ্রে রাখছেন কিনা। আর জেফরি এপস্টেইন ফাইলের বিষয়টি সামাল দেওয়া নিয়েও তিনি ট্রাম্পের সমালোচনা করেন।
এপস্টেইনের ফাইলগুলো মার্কিন বিচার বিভাগকে জনসম্মুখে প্রকাশ করতে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে (হাউজ) ভোট হওয়ার কথা রয়েছে আগামী সপ্তাহে।
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোট হতে পারে মঙ্গলবারেই। এমন সময়েই গ্রিনের সঙ্গে ট্রাম্পের এমন তিক্ত বিরাধ সামনে এল।
শুক্রবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “পাগলাটে মারজোরিকে আমি যা করতে দেখি—তা হল অভিযোগ, অভিযোগ আর অভিযোগ!”
ট্রাম্প দাবি করেন, গ্রিন তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কারণ, তিনি গ্রিনকে নিজ রাজ্য জর্জিয়ায় গভর্নর বা সিনেটর পদে না দাঁড়াতে পরামর্শ দিয়েছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, “অনেককে তিনি (গ্রিন) বলেছেন, আমি তার ফোন ধরি না বলে তার মন খারাপ। আমি তো প্রতিদিন একটা পাগলের ফোনকল ধরতে পারি না।”
আগামী বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে গ্রিনকে চ্যালেঞ্জ করে দাঁড়ানো যে কোনও রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ট্রাম্প।
“মারজোরি টেলর গ্রিন আমাদের গ্রেট রিপাবলিকান পার্টির জন্য অসম্মানজনক”, লেখেন ট্রাম্প।
গ্রিন বেশ কিছুদিন ধরেই ট্রাম্পের সমালোচনা করে আসছেন। ভোটারদের ব্যয় কমানোর জন্য ট্রাম্প যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ তার।
তাছাড়া, বিদেশে লড়াই-সংঘাত নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত এবং তার শুল্ক নীতি নিয়েও নিন্দা করেছেন গ্রিন। তবে ট্রাম্পের এপস্টেইন ফাইল পরিচালনা নিয়েই গ্রিন সবচেয়ে বেশি সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছেন।



