
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন শীর্ষে: ট্রাম্পের “তৃতীয়-বিশ্ব” অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা
হোসনেআরা চৌধুরী: হোয়াইট হাউসের কাছে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের ওপর গুলির ঘটনায় সৃষ্ট নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ঘোষণা করেছেন যে, তিনি “তৃতীয়-বিশ্ব” দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করবেন।
ন্যাশনাল গার্ডে গুলির পর ঘটনা
গত ২৬ নভেম্বর, ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের কাছে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুই জন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য আহত হন। একজন নিহত ও অপরজন গুরুতর আহত। অভিযুক্ত একজন আফগান নাগরিক, যিনি ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রাপ্ত ছিলেন।
এই ঘটনায় ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছিলেন, তিনি “তৃতীয়-বিশ্ব” দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে পজ (স্থগিত) করছেন। তিনি বলেছেন, গুলিবর্ষণ থেকে শিক্ষা নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কারণ “ভুল ভেটিং” এবং “অসতর্ক অভিবাসন” দেশের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
প্রশাসনিক ঘোষণা ও প্রভাব
• ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, যারা তার মতে “নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ” বা “রাষ্ট্রের জন্য বোঝা” তাদের অভিবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ হবে।
• তিনি পূর্ব প্রশাসনের অধীনে অনুমোদিত ভিসা, গ্রীন কার্ড প্রক্রিয়া এবং আশ্রয়প্রার্থীদের পুনর্বিচার করার কথাও উল্লেখ করেছেন।
• কোন দেশগুলোকে “তৃতীয়-বিশ্ব” হিসেবে ধরা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, অভিবাসন স্থগিতাদেশ বাস্তবায়ন করলে আন্তর্জাতিক চুক্তি ও মানবিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এই পদক্ষেপকে মার্কিন অভিবাসন নীতি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংক্রান্ত ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশ, ভারত, আফগানিস্তান ও অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা বৈধ অভিবাসন প্রার্থীদের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। গ্রীন কার্ড, কাজের ভিসা এবং আশ্রয়প্রার্থীদের সুযোগ সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্পাদকীয় মন্তব্য
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে এই পদক্ষেপের প্রভাব কেবল অভিবাসন প্রার্থীদের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক মানবিক নীতিতেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।



