
মাসুম মোরশেদ
আমাকে ছাড়া সরাইখানা জমে না। আমার ভাগ্যবিধাতা প্রায়শ ডাকেন। স্বত:স্ফূর্ত সাড়া দেই।
গতকাল ছিল প্রচণ্ড রোদ। বললেন, “এসো, পুলে জলকেলিতে যাই। ডুব সাঁতারে ঝিনুক পেলে তোমার।”
আল্লাদে গদগদ হয়ে দিনভর তল হাতরালাম, জল হাতরালাম। জানি, মরীচিকা। সেটাই আমার নিয়তি। আমার বলতে আমি এখানে সবার প্রতিনিধিত্ব করছি।
তার জলসাঘরে তার অঙ্গুলী হেলানে নাচ শুরু হয়, থামে। তিনি যখন ভোগে ব্যস্ত আমি তখন নিরুপায় মানুষ স্বমেহনে সুখ খুঁজি।
অনেক সময় মাতাল হয়ে নেতিয়ে পড়ে থাকেন মোজাইক ফ্লোরে আর আমার দুঃখের বোতল মাটিতে আকুলি-বিকুলি কান্দে।
দেবতারা প্রতিনিয়ত হোন ভোগ-বিলাসী। মত্ত থাকেন স্বর্গীয় সুরায়। আর প্রতিবিধান দেন আমার। আমি তার আজ্ঞাবহ।
আমার টিকে থাকার লড়াইয়ে তার দান-অবদান অবলীলায় স্বীকার করি। এই যে সিফন সফেদ পাঞ্জাবী, চুড়িদার পাজামা প্রায়শ পড়ছি। তার দান। প্রিয়ার জন্য লাল পেটিকোট ম্যাচিং করে লাল ব্রা-টা তারই ক্যাশে কেনা। কতকটা খুঁটিয়ে দেখা তারই প্রাপ্য।
আজ নিশ্চয় দেখছেন আমার সুদৃঢ় চেয়ার, সমুজ্জ্বল অবস্থান- এটা তার অবদান। আমি কখনও নারী, কখনও পুরুষ। আসলে আমি নপুংসক।



