আন্তর্জাতিক

দুর্নীতির অভিযোগে মলদোভার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

ইউরোপের দেশ মলদোভার প্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্দ্রু মুনতিয়ানু পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা মোল্ডএটিএসএ-কে ঘিরে সৃষ্ট রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে শুক্রবার তিনি এ ঘোষণা দেন।

ফলে দেশটির সরকারও সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, নিজের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে আপস করে তিনি আর দায়িত্ব পালন করতে চান না। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য পদপ্রার্থী এই দেশের সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে পুরো সরকারও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব আমি অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করেছিলাম এবং বিশ্বাস করেছিলাম যে দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনে অবদান রাখতে পারব।

কিন্তু যখন বুঝলাম আমার নীতি ও বিশ্বাস অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করা আর সম্ভব হচ্ছে না, তখন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
৬২ বছর বয়সী আলেক্সান্দ্রু মুনতিয়ানু ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে ইউরোপপন্থী পিএএস-এর জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হন। এর আগে তিনি প্রায় দুই দশক বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।

সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান চলাচল নিরাপত্তা সংস্থা মোল্ডএটিএসএ এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত উচ্চ বেতন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর দেশজুড়ে সমালোচনার মধ্যেই তার এই পদত্যাগের ঘোষণা আসে।

প্রধানমন্ত্রী মুনতিয়ানুর পদত্যাগ দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু এবং ক্ষমতাসীন ইউরোপপন্থী পার্টি অব অ্যাকশন অ্যান্ড সলিডারিটিন (পিএএস) জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভিতালি আন্দ্রিয়েভস্কি রয়টার্সকে বলেন, ‘মলদোভায় এখন তীব্র শাসন সংকট দেখা দিয়েছে।’

তবে পদত্যাগের পরও দেশের সেবায় থাকার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘যে অবস্থানেই থাকি না কেন, আমি আমার দেশের সেবা চালিয়ে যাব।’

মোল্ডএটিএসএ-কে ঘিরে নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা অভিযোগ সম্প্রতি দেশটিতে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার মলদোভার পার্লামেন্ট রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া, পরিচালনা পর্ষদের গঠন এবং একই ব্যক্তি একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখবে।

ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রোমানিয়ার মাঝখানে অবস্থিত মলদোভায় রোমানীয়ভাষী জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য রুশভাষী সংখ্যালঘুও রয়েছে। দেশটির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপপন্থী ও রাশিয়াপন্থী শক্তির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে আসছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension