
অক্টোবরে রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন এফবিআই প্রধান কাশ প্যাটেল
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা চলার মধ্যেই রাশিয়া সফরের পরিকল্পনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল। আগামী ১৪ ও ১৫ অক্টোবর তার এই সফর হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে এফবিআই পরিচালকের সম্ভাব্য রাশিয়া সফরকে অস্বাভাবিক ও স্পর্শকাতর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরের প্রথম গন্তব্য হতে পারে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো। এরপর প্যাটেল সেন্ট পিটার্সবার্গে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে তার সফরের সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বা ক্রেমলিনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বৈঠক হবে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।
রাশিয়াসংক্রান্ত বিভিন্ন বিতর্কিত ঘটনায় কাশ প্যাটেলের জড়িত থাকার ইতিহাস রয়েছে। এসব ঘটনা শুরু হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে।
এর মধ্যে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রচারণার সঙ্গে রাশিয়ার কোনো যোগাযোগ বা যোগসাজশ ছিল কি না, তা নিয়ে চলা তদন্তও রয়েছে। প্যাটেল ওই তদন্ত নিয়ে সন্দেহ তৈরি করার বিভিন্ন প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পলিটিকোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন এফবিআইয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সফরের পরিকল্পনা করছেন। এতে কংগ্রেসে তার কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি আরো বাড়ছে।
প্যাটেলের সম্ভাব্য সফরের খবর প্রকাশের পর রুশ সরকারের ঘনিষ্ঠ সংবাদপত্র মস্কোভস্কি কমসোমোলেতস এ নিয়ে মন্তব্য করেছে।
সংবাদপত্রটির ভাষ্য, রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা চাইতে গেলে এফবিআই পরিচালককে বিনিময়ে দেওয়ার মতো কিছু নিয়ে যেতে হবে। রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমির আরবাতভ ইনস্টিটিউট ফর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা স্টাডিজের গবেষক ভ্লাদিমির ভাসিলিয়েভ সংবাদপত্রটিকে বলেন, রাশিয়ার কাছে ডেমোক্র্যাটদের বিষয়ে কিছু গোপন তথ্য থাকতে পারে। তিনি বলেন, এসব তথ্য কোনো না কোনোভাবে মার্কিন পক্ষকে দেওয়া হতে পারে—এমন ধারণা রয়েছে। তবে ভাসিলিয়েভের এই মন্তব্য কোনো সরকারি তথ্য বা নিশ্চিত বক্তব্য নয়। তিনি সম্ভাব্য সফরের কারণ নিয়ে নিজের মতামত দিয়েছেন।
ভাসিলিয়েভ আরো বলেন, আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও রাশিয়াকে দেওয়ার মতো কিছু থাকতে পারে। তার মতে, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জানতে চাইতে পারে, ‘এর বিনিময়ে আমরা কী পাব?’ তিনি বলেন, আলোচনায় কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী, সেটিও রুশ পক্ষ জানতে চাইতে পারে। ভাসিলিয়েভের রাশিয়ার আন্তর্জাতিক বিষয়ক পরিষদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ।
পলিটিকোর প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, রাশিয়ার প্রধান নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি প্যাটেলের সফরের আয়োজক হতে পারে। এফএসবি হলো সোভিয়েত আমলের কেজিবির উত্তরসূরি। এটি রাশিয়ার প্রধান অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা। তবে প্যাটেলের সফর সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সফরে তার সঙ্গে রুশ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কী ধরনের বৈঠক হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বা ক্রেমলিনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্যাটেলের বৈঠক হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি
২০১৩ সালে রাশিয়ায় সরকারি সফর করা সর্বশেষ পরিচিত এফবিআই পরিচালক ছিলেন রবার্ট মুলার। পরে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে রাশিয়ার সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টি তদন্তে মুলারকে বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি একই সঙ্গে মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগও তদন্ত করেন। এ কারণে প্যাটেলের সম্ভাব্য রাশিয়া সফরকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্ক এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত এফবিআইয়ের পুরোনো তদন্তের ইতিহাসও রয়েছে।



