বাংলাদেশরাজনীতি

সুখী-সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা মির্জা ফখরুলের

সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তিনি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন, যেখানে প্রান্তিক মানুষ, খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠী ও দিনমজুররা দুই বেলা পেট ভরে খেতে পারবেন। তারা সুস্থ পরিবেশে বসবাস করবেন এবং নিরাপদ ও নিশ্চিন্তে জীবনযাপন করতে পারবেন।

তিনি বলেন, দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সমাজের জন্য আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ একটি আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমি প্রত্যাশা করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণ করতে সক্ষম হবে।’

দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি তিনি শুকরিয়া আদায় করেন। দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামে তিনি তাদের পাশে ছিলেন। সুখে-দুঃখে মানুষের সঙ্গে থাকার সুযোগ পাওয়ায় তিনি দেশবাসীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গণমাধ্যমসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞতা তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি প্রকাশ করতে চান। তার নেতৃত্বেই ‘প্রত্যাশিত বাংলাদেশ’-এর গন্তব্যে দেশ পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে কী কী মিস করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেক কিছু মিস করব।’ বিষয়টি স্মরণ করতে গিয়ে তিনি আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বলেও জানান।

তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে দেশবাসীর সুস্থতা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করেন। একই সঙ্গে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণে সবাইকে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, এদিন সবচেয়ে বেশি তার মনে পড়ছে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথা। তিনি বলেন, এই মহীয়সী নারী নেত্রীর সান্নিধ্য ও স্নেহ পেয়েছেন। তাকে স্মরণ করলে তার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ার কথা জানান তিনি।

বামঘরানার ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভাসানী ন্যাপের রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে আসেন। পরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বিএনপিতে যোগ দেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় খালেদা জিয়া তাকে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব দেন।

২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। পরে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভার স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন এ নির্বাচন পরিচালনা করবেন। দুপুর ২টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, তিনি দুপুর ২টায় সংসদে গিয়ে ভোট দেবেন।

গত কয়েকদিন ধরে হেয়ার রোডের ৩৫ নম্বর বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড় দেখা গেছে। নিজের নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীরা তাকে একনজর দেখতে সেখানে ভিড় করছেন। মির্জা ফখরুলও তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের জন্য দোয়া চাচ্ছেন।

বুধবার বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় অংশ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে এটিই ছিল সংসদীয় দলের সভায় তার শেষ অংশগ্রহণ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হবে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension