বাংলাদেশরাজনীতি

এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকে মামলা: জামায়াত আমিরের ডিভাইস না পেয়ে থমকে তদন্ত

বেশ কয়েকবার তার ডিভাইস চেয়েছি; কিন্তু এখনো পাইনি -তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের মামলায় তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলামত মিলছে না। হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্টটি ব্যবহারের জন্য আমিরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস চেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা একাধিকবার চিঠি দিলেও সেগুলো তদন্তের জন্য পাওয়া যায়নি। এমনকি আদালতের মাধ্যমেও ডিভাইস চাওয়া হয়েছে। কিন্তু বাদীপক্ষের দিক থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানায় তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র। ফলে ছয় মাসের বেশি পার হলেও মামলাটির তদন্তের মূল প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলছে না।

এদিকে অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে পরে জামিন পাওয়া বঙ্গভবনের সাবেক সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম দাবি করেছেন, তিনি হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত নন এবং পুলিশ তার ডিভাইস পরীক্ষা করেও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্যপ্রমাণ পায়নি। তিনি বলেন, তদন্তের জন্য জামায়াত আমিরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ ডিভাইস চাওয়া হলেও সেগুলো দেওয়া হচ্ছে না। আমাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে।

মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম-দক্ষিণ ইউনিট। মামলার বাদী মো. সিরাজুল ইসলামের কাছে ডিভাইস ও অন্যান্য আলামত চেয়ে চার দফা চিঠি দেন তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্তের স্বার্থে এসব ডিভাইস জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেগুলো তদন্ত সংস্থার হাতে দেওয়া হয়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ডিভাইস।

ওই ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষায় অ্যাকাউন্টে কখন, কোথা থেকে এবং কীভাবে প্রবেশ করা হয়েছে, লগইন বা সেশন-সংক্রান্ত তথ্য, ম্যালওয়্যার বা ফিশিংয়ের কোনো আলামত ছিল কি না, এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সুযোগ থাকে। অথচ হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্টের পক্ষের ডিভাইসই না পাওয়ায় তদন্তে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্ট সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) হাজিফুল ইসলাম বাবু যুগান্তরকে বলেন, ‘আদালতের অনুমতি নিয়ে আমরা বাদীর কাছে বেশ কয়েকবার তার ডিভাইস চেয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত ডিভাইস দেওয়া হয়নি। এক্স কর্তৃপক্ষের কাছেও আমরা চিঠি দিয়েছি। তারাও এখন পর্যন্ত আমাদের কিছু জানায়নি। তারা কোনো তথ্য দেবে কি না, সেটিও আমরা জানি না। তবে ডিভাইস পেলে তদন্তে অনেকটাই সুবিধা হতো।’

এ বিষয়ে মামলার বাদী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘মামলা করার সময়ই আমরা বেশকিছু কাগজপত্র ও তথ্যপ্রমাণ দিয়েছি। ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানী রিপোর্ট, হ্যাকিং কীভাবে সংঘটিত হয়েছে সে সংক্রান্ত আমাদের নিজস্ব গবেষণা প্রেজেন্টেশন, তথ্যপ্রমাণ এবং এক্সপার্ট ওপিনিয়নে পাওয়া বিষয়গুলোও তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে তারা যে ডিভাইসগুলো চেয়েছে, সেগুলো দেওয়ার বিষয়ে আমরা এরই মধ্যে দুবার ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে কথা বলেছি। ডিভাইসগুলো কী প্রক্রিয়ায় দেওয়া যায়, আইনি প্রক্রিয়াটা কী হবে এবং সেগুলোর নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রক্রিয়াটি নিয়ে আমরা কমফোর্টেবল অবস্থায় পৌঁছাতে পারলে এবং আইনি বিষয়গুলো ঠিকঠাক থাকলে ডিভাইসগুলো দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।

৩১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ইংরেজিতে ‘নারীবিদ্বেষী’ একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পরে নারীকে অবমাননা করা পোস্টটি নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পোস্ট প্রকাশের পর জামায়াতের পক্ষ থেকে সেটি হ্যাক হওয়ার দাবি করা হয়। এ ঘটনায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি এবং পরে মামলা করা হয়। মামলায় রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ছরওয়ারে আলমকে আটক করে ডিবি। তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। পরদিন তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখানোর কথা জানায় ডিবি। তবে পরদিনই আদালত থেকে তিনি জামিন পান। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সাময়িক বরখাস্ত থাকায় নিজের চাকরিজীবন নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন ছরওয়ারে আলম।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension