আন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের তেল চুক্তির মেয়াদ ২৫ বছর: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা তেল চুক্তিটি ২৫ বছর কার্যকর থাকবে। এই চুক্তির লক্ষ্য হলো দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন বাড়িয়ে ১৫ লাখ ব্যারেলের বেশি করা। গতকাল শনিবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ভিটিভিকে দেওয়া বক্তব্যে রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

রদ্রিগেজ বলেন, চুক্তিটি ২৫ বছর কার্যকর থাকবে এবং এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার দৈনিক তেল উৎপাদন ১৫ লাখ ব্যারেলের ওপরে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো শেভরন, র‍্যাপসল, এনির মতো বড় কোম্পানি, পাশাপাশি শেল ও বিপির মতো জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আরও বড় চুক্তি করা। আমরা একটি জ্বালানি শক্তিতে পরিণত হতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাস্তব অর্থে এর মানে হলো, উৎপাদিত ও বিক্রি হওয়া প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য প্রায় ১৯ ডলার সরাসরি আমাদের দেশে যাবে।’ চুক্তিটি ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে কী ধরনের অবদান রাখবে, সে বিষয়ে রদ্রিগেজ বলেন, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৬৫ ডলার ধরে হিসাব করলে এই চুক্তি থেকে দেশটি ২০৯ দশমিক ৩৩৫ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করতে পারে।

রদ্রিগেজ বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় অরিনোকো অয়েল বেল্টের আটটি অপরিশোধিত তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন করা হবে। পূর্ব ও মধ্য-পূর্ব ভেনেজুয়েলায় বিস্তৃত এই তেল অঞ্চলটির আয়তন ৫৫ হাজার বর্গকিলোমিটারেরও বেশি, যা ২১ হাজার ২৩৫ বর্গমাইলের সমান। তিনি জানান, চুক্তিতে অন্তত ১৬ শতাংশ রয়্যালটি এবং ৩৪ শতাংশ আয়কর দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তার মতে, এসব শর্ত ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে দ্রুততর করবে।

চুক্তি সম্পাদনে ভূমিকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ধন্যবাদ জানান রদ্রিগেজ। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি পক্ষ নিজেদের সবচেয়ে ভালো যে কাজটি করতে পারে, সেটিই করেছে।’ তিনি বলেন, ‘এটা অবশ্যই একেবারে পরিষ্কার থাকতে হবে যে, ভেনেজুয়েলাই তার সম্পদের মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব ধরে রেখেছে।’

রদ্রিগেজ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার কৌশলগত তেল খাতের পুনরুদ্ধার দ্রুত করতে মূলধন, প্রযুক্তি এবং পরিচালন সক্ষমতা সরবরাহ করবে। নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির এই গুরুত্বপূর্ণ তেল খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকার ভেনেজুয়েলার জনগণের কাছে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ থাকবে বলেও জানান রদ্রিগেজ। তিনি বলেন, জনগণের ‘জানার অধিকার রয়েছে কত অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে, কত তেল উৎপাদন হচ্ছে, রাষ্ট্র কত রাজস্ব পাচ্ছে এবং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কী শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।’

এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত ৬৫০০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল মজুদের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তিতে প্রবেশ করেছে।’

চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করার জন্য তিনি মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে কৃতিত্ব দেন। জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক অভিযান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। ট্রাম্প দাবি করেন, বেসরকারি শিল্পখাতের অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং এর জন্য মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না।

তাঁর দাবি, এই লেনদেন যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান তেল মজুদের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি করবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে এটি যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের জন্য গ্যাসের দাম ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে’ এবং দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় সমৃদ্ধি বাড়াতে সহায়তা করবে। ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তি ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে দ্রুত পরিবর্তনশীল সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে দুই দেশের জন্যই ‘বড় জয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension