
আইসিই হেফাজত থেকে মুক্ত কাশ্মীরি চলচ্চিত্র নির্মাতা আরফাত শেখ
বন্ডে মুক্তি, বহিষ্কার-সংক্রান্ত অভিবাসন মামলা চলমান
হোসনেআরা চৌধুরী :
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর হেফাজত থেকে বন্ডে মুক্তি পেয়েছেন পুরস্কারপ্রাপ্ত কাশ্মীরি চলচ্চিত্র নির্মাতা আরফাত শেখ। প্রায় দুই সপ্তাহ আটক থাকার পর বৃহস্পতিবার তিনি মুক্তি পান। তবে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান বহিষ্কার-সংক্রান্ত অভিবাসন মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। তাঁর সমর্থকদের প্রচারণা দলের বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
৪২ বছর বয়সী শেখ গত ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা একটি ফ্লাইটে ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ICE-এর হাতে আটক হন। তিনি ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়া শহরে বসবাস করতেন। তাঁর আটক হওয়ার ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং শিল্পীদের অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
শেখের সমর্থক ও স্বজনদের উদ্যোগে গঠিত মুক্তির প্রচারণা দলের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার তাঁর বন্ড মঞ্জুর করা হয় এবং বৃহস্পতিবার তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে তাঁর অভিবাসন মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৭ অক্টোবর নির্ধারিত রয়েছে বলে প্রচারণা দল জানিয়েছে।
অভিবাসন আবেদন নিয়ে মতপার্থক্য
প্রচারণা দলের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ ২০১৯ সালে জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে চলচ্চিত্র বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। ২০২০ সালে তিনি আশ্রয়ের আবেদন করেন। তাঁর সমর্থকদের দাবি, আবেদনটি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করার অনুমোদন পেয়েছিলেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) জানিয়েছে, শেখ সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেলেও অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ অতিক্রম করেছিলেন। বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন বিচারাধীন থাকলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা নিশ্চিত করে না। একই সঙ্গে তাঁকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে বিভাগটি।
কাশ্মীরের সংঘাত নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ
কাশ্মীরের সংঘাত ও মানুষের অভিজ্ঞতা তাঁর চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান বিষয়। শেখের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র Saffron Kingdom ২০২৪ সালে মুক্তি পায়। ছবিটিতে ১৯৯০-এর দশকে শ্রীনগর থেকে ২০১৯ সালে আটলান্টায় পৌঁছানো একটি পরিবারের যাত্রার মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।
চলচ্চিত্রটি শিকাগো ফিল্মমেকার্স অ্যাওয়ার্ডস, লস অ্যাঞ্জেলেস ফিল্ম অ্যান্ড ডকুমেন্টারি অ্যাওয়ার্ডস, মেলবোর্ন ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং ওয়েক ফরেস্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালসহ একাধিক আয়োজনে সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২৫ সালে টিনেক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তিনি ‘এমার্জিং ফিল্মমেকার অ্যাক্টিভিস্ট অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন।
শেখের আটক হওয়ার ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের পদ্ধতি, আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি অবস্থান এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের মধ্যেই সামনে এসেছে। মানবাধিকারকর্মীদের একাংশ অভিবাসন অভিযানের সময় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বন্ডে মুক্তি পাওয়ায় শেখ আপাতত ICE-এর আটককেন্দ্রের বাইরে রয়েছেন। তবে তাঁর ভবিষ্যৎ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান এবং বহিষ্কার-সংক্রান্ত মামলার পরিণতি নির্ভর করবে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার ওপর।



