
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক: বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর বিএনপির (দক্ষিণ) সভাপতি হাবীব-উন-নবী খান সোহেলকে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে গুলশান-২ এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেসন্স বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, তাকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ডিএমপি গ্রেফতার করা করেছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দীন দিদার জানিয়েছেন, বিএনপি নেতা সোহেলকে গ্রেফতার করে গুলশান থানায় রাখা হয়েছে। তবে তাকে কোন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে তা সম্পর্কে কিছুই জানায়নি পুলিশ।
উল্লেখ্য, সোহেলের বিরুদ্ধে নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে। এজন্য দীর্ঘদিন আত্মগোপনেও ছিলেন তিনি। পুলিশ তাকে ধরতে তার শান্তিনগরের বাড়িতে একাধিকবার তল্লাশি চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার রাতেই রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরী এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সন্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট এখন পতনের ভয়ে শঙ্কিত। এজন্যই বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
রিজভী বলেন, হাবিব উন নবী খান সোহেল বিএনপির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। ছাত্র রাজনীতি শেষ করার পরে সে ক্রমান্বয়ে বর্তমান অবস্থানে থেকে রাজনীতি করছে। একজন সজ্জন, মৃদুভাষী রাজনীতিক হওয়ার পরও শুধুমাত্র সক্রিয়ভাবে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশগ্রহণ করার জন্য তার বিরুদ্ধে শত শত মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করা হয়েছে বিগত কয়েক বছরে। বেশ কিছু মামলায় জামিনের পরে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার পরও গত আট মাসে তার বিরুদ্ধে সত্তর থেকে আশিটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে রিজভী আরও বলেন, ইতোমধ্যে কয়েক দফা সোহেলের বাসায় পুলিশ হানা দিয়ে বাড়িঘর তছনছ করে দিয়েছে।
সাংবাদিক সন্মেলনে রিজভী হাবিব উন নবী খান সোহেলকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানান। সেই সঙ্গে অবিলম্বে সোহেলের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারসহ নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করেন।
রিজভী বলেন, ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত, জালিয়াতি, মিথ্যাচার ইত্যাদি অবলম্বন করেই সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অশুভ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মেতে উঠেছে। ক্ষমতা হারানোর হতাশার বিকারেই সরকার মারমুখী হয়ে উঠেছে।



