
নিজের আলোয় উদ্ভাসিত এক নারী।
দিপু তৌহিদুল, রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক: বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম নারী মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ডা. সুসানে গীতি। সেনা প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সামছুল হক, গত রবিবার ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের সেনা সদরদপ্তরে তাঁকে মেজর জেনারেল পদবির র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন।
মেজর জেনারেল সুসানে গীতি ১৯৮৫ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেছেন। এরপর ১৯৮৬ সালে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নারী ডাক্তার হিসেবে ক্যাপ্টেন পদবিতে যোগদান করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে প্রথম নারী হিসেবে হেমাটোলজি’ তে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
ডা. সুসানে গীতি সফলতার সাথে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন এবং বিভিন্ন সামরিক হাসপাতালে প্যাথলজি বিশেষজ্ঞের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তথ্য সূত্র : আইএসপিআর।
বাংলাদেশের মতন দেশের নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে ডা. সুসানে গীতির মেজর জেনারেল হওয়াটাই বিশাল ঘটনা । দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর ইতিহাসে খুব বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে যোগ্য নারী কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের মাঝ দিয়ে। এটা ঘটতে স্বাধীনতার পর থেকে ৪৭ টি বছর লেগে গিয়েছে।
এখন যেহেতু একজন নারী মেজর জেনারেল হয়েছেন, তখন আশা করা যায় সামনে সেনা নারী কর্মকর্তাদের কর্ম দক্ষতায় এটার প্রভাব পড়বে, সেটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে এখন বহু নারী অফিসার রয়েছেন, তারাও চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগোতে পারবেন। মূল্যায়ন হলে কাজের গতি স্বাভাবিক ভাবেই বেড়ে যায়।
ডা. সুসানে গীতির মূল্যায়ন শুধু বাংলাদেশের সামরিক প্রশাসনের নারী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেই নয় ! বেসামরিক ক্ষেত্রের নারীদের জন্যও বিশেষ উৎসাহ যোগাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। একটি দেশের উন্নয়নে নারী পুরুষের সম অংশগ্রহণ ব্যাতিত কখনো সম্ভব নয়। বাংলাদেশের নারীরা এখন অনেক দ্রুত আগুয়ান তারই ধারাবাহিকতার বাস্তব উদাহরন হলেন মেজর জেনারেল সুসানে গীতি।
প্রমানিত হলো সুযোগ পেলে যে কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নারীরা তাদের যোগ্যতার পরিচয় দিতে সক্ষম। অভিনন্দন মেজর জেনারেল সুসানে গীতিকে। পাশাপাশি নারী কর্মকর্তাদের কাজের মূল্যায়নে উদার মানসিকতা প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে বিশেষ ধন্যবাদ দিতে হবে। ছবিঃ আইএসপিআর।



