
ব্যারিস্টার মইনুল কারাগারে
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে কটুক্তির অভিযোগে রংপুরে দায়ের হওয়া মানহানির মামলায় গ্রেপ্তার ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে, ঢাকা মহানগর মূখ্য হাকিম আদালতে তোলা হলে শুনানি শেষে, এ নির্দেশ দেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, আব্দুলাহ আবু জানান,’ব্যারিস্টার মইনুলকে জামিন নিতে হলে রংপুরের আদালত থেকে জামিন নিতে হবে।’
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে, গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয় থেকে তাকে মহানগর মূখ্য আদালতে নেয়া হয়।
এদিকে, রংপুরের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও, ঢাকার আদালতে মামলাটি পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুবুর আলম। এর আগে, গ্রেপ্তারের পর ব্যরিস্টার মইনুলকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানান মাহবুবুর আলম।
নারী বিদ্বেষী ও অশালীন বক্তব্য দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২২শে অক্টোবর সোমবার বিকেলে, রংপুরের মুলাটোল এলাকার মিলি মায়া বেগম বাদী হয়ে রংপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ব্যরিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানহানির মামলাটি করেন।
পরে তা আমলে নিয়ে ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরে রাত দশটার দিকে রাজধানীর উত্তরায় আ স ম আব্দুর রবের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।
এদিকে আজ মঙ্গলবার সকালে, ময়মনসিংহে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরও একটি মামলা করা হয়েছে।
সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে অশালীন মন্তব্য করায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করেছেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও ভালুকা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মনিরা সুলতান মনি।
ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, মনিরা সুলতানা মনির আইনজীবী পিযুষ কান্তি সরকার।
এর আগে ব্যারিস্টার মইনুলের ঐ অশালীন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ভোলা, জামালপুর ও কুড়িগ্রামেও তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়। তবে, ঢাকা ও জামালপুরে করা মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পান ব্যারিস্টার মইনুল।
গেলো ১৬ই অক্টোবর ৭১ টেলিভিশন চ্যানেলের টকশো ‘একাত্তর জার্নাল’ অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি প্রশ্ন করেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আপনি যে হিসেবে উপস্থিত থাকেন– আপনি বলেছেন আপনি নাগরিক হিসেবে উপস্থিত থাকেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বলছেন আপনি জামায়াতের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে উপস্থিত থাকেন।‘
মাসুদা ভাট্টির এই প্রশ্নে রেগে গিয়ে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, ‘আপনার দুঃসাহসের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আপনাকে আমি ‘চরিত্রহীন’ বলে মনে করতে চাই।



